সূচিপত্র

    সুন্নীদের গুরু আহমাদ রেজা খানের ইতিহাস

     

     

    বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য ইংরেজ বেনিয়ারা নামে মুসলিম আর কর্মে শিরক ও বিদয়াত সম্পাদনকারী কিছু লোক খোঁজ ছিল। কারণ ইংরেজরা ভালো করেই জানে, মুসলিম জাতি হলো বীরের জাতি। তারা যদি একতাবদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে কখনোই তাদের অন্তরে বোনা ভারত শাসনের রঙ্গীন স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে, বাস্তবে  ধরা দিবে না।  তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত দুজন ব্যক্তিকে অবশেষে পেয়ে গেল। একজন হলো মির্জা গোলাম আহমদ কাদীয়ানী ও অপরজন হলো আহমাদ রেজা খান। এদুজন ব্যক্তির মাধ্যমে ভারতীয় মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি  ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা দুজন মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করে। একজন নিজেকে নবী দাবি করে আর আরেকজন অলী আওলীয়া ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে । আজ পাঠক সমীপে আহমাদ রেজা খানকে নিয়ে কিছু কথা লেখবো। আমি আশাবাদী অবশ্যই অনুসন্ধিৎসু পাঠক উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ। তো চলুন শুরু করি রেজা খান যাত্রা। আর হ্যাঁ, সুন্নীরা আহমাদ রেজা খানকে আলা হযরত নামেও ডাকে।


    জন্ম: আহমাদ রেজা খান ১৪ জুন ১৮৬৫ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরেলী শহরে জন্ম গ্ৰহণ করে । তার জন্ম হয় এক সাহিত্যমনা পরিবারে। তার বাবা নকী আলী ও তার দাদা রেজা আলী হানাফী মাজহাবের আলেম ছিল। তার মা তার নাম রাখে আমান মিয়া। তার বাবা তার নাম রাখে আহমাদ মিয়া। তার দাদা তার নাম রাখে আহমাদ রেজা। কিন্তু সে সবার নাম উপেক্ষা করে নিজের নাম দেয় আব্দুল মুস্তফা। (২৮ পৃঃ বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস) 


    তার স্বভাব: সে ছিল বদ মেজাজি, রাগী। তার মুখের ভাষা ছিল নেহায়েত নোংরা। সে তার বিরোধী লোকদের গালাগালি করতো।যেমন: সে তার বিরোধীদের বলতো, "শয়তান, অভিশপ্ত, দেওবন্দীদের ও গাইরে মুকাল্লীদদের জাহান্নামের কুকুর বলতো। ইবলীসের ভেড়া, দাজ্জালের গাধা, মুনাফিক, ওয়াহাবী, নজদী ইত্যাদি।"  শাহ ইসমাইল শহীদ সম্পর্কে সে বলতো, "বিদ্রোহী, শয়তান, অভিশপ্ত ও সম্মানহীন লোক।" (৩১ পৃঃ বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  

    সে আরো বলতো, "ওয়াহাবীদের সাথে উঠা বসা, চলা ফেরা করা যাবে না। বিবাহ শাদি দেয়া যাবে না। তাদের মসজিদে টাকা দেয়া জায়েয নেই।" সে মুসলিমদের ঢালাওভাবে কাফের বলতো।  পাকিস্থানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও আল্লামা ইকবাল  কে কাফের বলে ঘোষণা দেয়। (১৯ পৃঃ বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  

    প্রিয় পাঠক, বর্তমানেও আপনি দেখতে পাবেন তার অনুসারী সুন্নীরা আহলে হাদীস ও দেওবন্দীদের কাফের, ওয়াহাবী নজদী বলে থাকে। তারা আরো বলে, যে ওয়াহাবীদের পেছনে সালাত বিশুদ্ধ হবে না, তাদের কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়া বা তাদের মেয়েদের বিয়ে করা জায়েয হবে না। আমার কথা যাচাই করার জন্য ইউটিউবে সার্চ দিয়ে তাদের বক্তাদের গালিগালাজ একটু শুনুন। আপনি দেখতে পাবেন আহমাদ রেজা খানের সাথে তাদের কত মিল! সে যেমন হক পন্থী আলেমদের গালিগালাজ করতো বর্তমানে তার অনুসারীরাও গালিগালাজ করে। আল্লাহর কাছে এই কাজ থেকে আশ্রয় চাই।

    তার শিক্ষক: তার শিক্ষক ছিল মির্জা গোলাম আহমদ কাদীয়ানীর ভাই মির্জা গোলাম কাদের বেগ।  রেজা খানের বাবা ও দাদা হানাফি মাযহাবের আলেম হলেও তার বিরোধীরা বলছেন, "তারা শিয়া মতাদর্শী ছিল।"  তবে একটা কথা নিশ্চিত বলতে পারি, রেজা খান অবশ্যই শিয়াদের আদর্শ লালন করতো। যার প্রমাণ মিলে তার বই পুস্তক থেকে। তার অনুসারীদের মাঝে বর্তমানে শিয়া প্রীতি বিদ্যমান। মাথায় শিয়াদের মতো টুপি, গায়ে শিয়াদের মতো  কাপড়, হাসান, হোসাইন রাদিআল্লাহু আনহুমা কে নিয়ে বাড়াবাড়ি ও ইয়াজিদকে গালমন্দ করা। নিজেদের ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহার বংশধর দাবি করা, আরো কত কী! ভালো করে অবলোকন করুন তাহলেই শিয়াদের আদর্শ যে তাদের মাঝে রয়েছে তা প্রতিভাত হয়ে যাবে।


    তার আয়ের উৎস: তার ভক্তরা অতিরঞ্জন করে বলে,  তার নাকি তালাবদ্ধ সিন্দুক ছিল, সেখান থেকে সে টাকা পয়সা, অলংকার, গহনা, কাপড়- চোপড় যা ইচ্ছে বের করতো। আসলে বিষয়টা তা নয়। আসল ঘটনা হলো সে ছিল বৃটিশদের দালাল। তারা তাঁকে সহযোগিতা করতো। আরো একটা কথা হলো তার সম্পত্তি ছিল দান ও মানুষের আমানত ‌। মানুষ তাকে জ্ঞানী মনে করে আমানত রাখতো আর সে এগুলো ভোগ করতো। (পৃঃ৪৬, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  


    তার অভ্যাস: সে সদাসর্বদা পান চিবাতো।সে এতোই পান চিবানোতে অভ্যস্ত ছিল যে ইফতারের পরই সে পান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতো। সে হুকা ভীষণ পছন্দ করতো। হুকা পানের সময় সে বিসমিল্লাহ বলতো না। যেন শয়তান তার সাথে অংশগ্রহণ করতে পারে। তার আরো অভ্যাস ছিল মানুষের পদচুম্বন করা। কেউ হজ করে ফিরে আসলে সে তার পদচুম্বন করতো। (পৃঃ৪৭, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  

    বর্তমানে তার অনুসারীরাও কদমবুসী করাকে খুব ভালো কাজ মনে করে।


    তার বাচনভঙ্গি: সে অনর্থক ও অর্থহীন শব্দ বেশি ব্যবহার করতো। এর দ্বারা সে নিজেকে জ্ঞানী বুঝাতে চাইতো। কারণ ওইসময় নিয়ম ছিল যে যত জ্ঞানী তার ভাষা তত দুর্বোধ্য। সে তার বিরোধীদের ব্যাপারে কঠিন শব্দ ব্যবহার করতো। কুকুর,  শুকুর, লম্পট আরো কত কি! 


    তার রচিত বই: তার ভক্তরা অতিরঞ্জন করে বলে, সে ২০০ টি বই লেখেছে। আবার কেউ বলে ৩৫০ টি বই লেখেছে। আবার কেউ বলে, ৪৪০ টি বই লেখেছে। আবার কেউ বলে, ৫০০ টি বই লেখেছে। আবার কেউ বলে ৬০০ এর অধিক বই লেখেছে। আবার কেউ বলে ১০০০০ এর অধিক বই লেখেছে। কিন্তু আসল কথা হলো তার রচিত বই ১০ এর অধিক নয়। (পৃঃ৫০বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস) 

    জিহাদের বিরোধীতা ও ইংরেজদের সমর্থন: 

    তদানীন্তন সময়ে যারাই জিহাদের কথা বলতো সে তাদের ওয়াহাবী, নজদী, কাফের বলতো। রেজা খান বৃটিশদের বাছাইকৃত লোকদের মাঝে শীর্ষে ছিল ‌। (পৃঃ৫১, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  


     সে ওইসময় জিহাদ করা যাবে না  বলে ফতোয়া দেয়। ভারত কে দারুল হারবের পরিবর্তে দারুল ইসলাম বলে। অথচ সব আলেম দারুল হারব বলেন। সে এ বিষয়ে চটি বই লেখে। এর নাম দেয়, 

    إعلام الإعلام بأن هندوستان دار الإسلام

    (ইলামুল ইলাম বি আন্না হিন্দুস্থান দারুল ইসলাম)

    এই বইয়ে সে ওয়াহাবীদের কাফের মুরতাদ আখ্যা দেয়। আরো লেখে তাদের ক্ষমা করা যাবে না । তাদের পেছনে সালাত হবে না, তাদের জবাই করা পশু খাওয়া যাবে না, তাদের সাথে সামাজিক আচরণ চলবে না, তাদের একঘরে করে রাখতে হবে। তাদের নারীদের দাসী বানানো উচিত। (পৃঃ৫৪, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  


     সে অসহযোগ আন্দোলনের বিরোধিতা করে। সে বলে, "জিহাদ ভারতে ফরজ নয়।"  জিহাদ থেকে মানুষকে ফিরানোর লক্ষে বলতো,

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ 

    'হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকো। তোমরা সঠিক পথে থাকলে তোমাদের কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। আল্লাহর কাজেই তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে। তারপর তোমরা যা করেছো সে সম্পর্কে তিনি তোমাদের অবহিত করবেন।'( মায়েদা, ৫/১০৫)


     ওই সময় ভারতীয় আলেমরা তুর্কি খেলাফাত পুণরায় ফিরিয়ে আনতে চাইলে সে বলে, "ফিরানোর প্রয়োজন নেই। কারণ খলিফা হওয়ার জন্য কুরাইশী হওয়া শর্ত। আর তুর্কিরা কুরাইশী নয়।" (পৃঃ৫৬, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  

     

    বৃটিশরা ১৮৫৭ সালের পর থেকে আলেমদের ফাঁসি ও কারাবদ্ধ শুরু করে এবং নানা নির্যাতন করে তাদের জীবন বিষিয়ে তোলে। তারা  আলেম ও সাধারণ মিলে ১ লক্ষ  মানুষকে হত্যা করে । আর ওই সময় সে দিব্যি আয়েশ করে চলছিল । তাকে বৃটিশরা কিছুই বলছিল না। যে সকল আলেম কারবদ্ধ হন  তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মিয়া নাজির হোসাইন দেহলবী রহিমাহুল্লাহ।(পৃঃ৫২, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  

    বৃটিশ সাংবাদিক ফ্রান্সিস রবিনস বলেন, "রেজা খান বৃটিশদের সমর্থক ছিল। ১৯২১ সালে খেলাফত আন্দোলনের সময় সে বৃটিশদের একজন মদদ দাতা ছিল। ওই সময় সে তার অনুসারীদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করে, যারা সবাই অসহযোগ আন্দোলনের বিরোধী ছিল।(পৃঃ৫৮, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  

    রেজা খান এতোটাই  ইংরেজ প্রেমিক ছিল, যার দরুন তার অনেক ভক্ত তাকে ছেড়ে চলে যায়। কারণ তারা কিছু হলে বুঝতো। (পৃঃ৬০, বেরেলভী মতবাদ, আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস)  

     সুতরাং আমরা হলফ করে বলতে পারি যে, সে ইংরেজদের দালাল ছিল। কিন্তু  হাস্যকর বিষয় হলো তার বক্তরা তার বিষয়টা ঢাকার জন্য হক পন্থী আলেমদের ইংরেজদের দালাল বলে থাকে। এ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা। সে যদি ইংরেজদের দালাল না হতো তাহলে কীভাবে এতো আয়েশ করে চলে?

    তার বিশেষ কিছু আকীদা:

     পীর অলী আওলীয়াদের ভক্তি করে আল্লাহর আসনে বসিয়ে দিয়েছে। আবদুল কাদির জিলানী রহিমাহুল্লাহ কে অতি ভক্তি করে আল্লাহর চেয়ে বড় বানিয়ে দিয়েছে। তার নাম দিয়েছে গাওছুল আযম (মহান সাহায্যকারী) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন নূরের তৈরি, তিনি গায়েব জানেন, তিনি তার উম্মতের আমলের খবর রাখেন, তিনি হাজির নাজির, তিনি পৃথিবী থেকে মৃত্যুবরণ করেননি, বরং তিনি জীবিত। তার অসিলায় দোয়া করা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সৃষ্টি করা না হলে আসমান জমিন সৃষ্টি করা হতো না। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।

     ‏ "‏ لاَ تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ، فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ ‏"‏‏.‏


     "তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেমন ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে  খ্রিস্টানরা বাড়াবাড়ি করেছিল। আমি তাঁর বান্দা। তাই তোমরা বলবে, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"( বুখারী, হা/ ৩৪৪৫)

     

     ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ ‏"‏ ‏.‏

    "হে মানব সকল! দ্বীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে।"( ইবনু মাজাহ, হা/ ৩০২৯)


     ‏ "‏ أَلاَ هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "সাবধান! চরমপন্থীরা ধ্বংস হয়েছে।"  তিনি এ কথা তিনবার বললেন।( আবু দাউদ, হা/ ৪৬০৮)


     মিলাদ মাহফিল করা, কবর পুজা করা, মাজার পুজা, পীরের পায়ে সাজদা করা আরো অসংখ্য তার শিরকী আকীদা রয়েছে। আমরা আশ্চর্য হই আহমাদ রেজা খানের আগে কত বিদ্বান গত হয়েছেন, কত বই পুস্তক প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানতেন, তিনি নূরের তৈরি, তিনি হাজির নাজির। হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারী লেখেছেন, সেখানে কত বিষয় নিয়ে  আলোচনা করেছেন! কই তিনি তো আলোচনা করেননি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানতেন বা তিনি নূরের তৈরি, তিনি হাজির নাজির। ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ সহ আরো কত বড় বড় বিদ্বান গত হয়েছেন, কেউ তো এগুলো নিয়ে আলোচনা করেননি। সর্ব প্রথম সে-ই মুসলিমদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করার মানসে ও ইংরেজদের হীন উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার জন্য এই অনর্থক বিষয় নিয়ে আলোচনার ঝড় তোলে। প্রিয় পাঠক কে আমি বলবো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি নূরের তৈরি এটা বললে কি আপনার সাওয়াব হবে? হবে না। তাহলে কেউ এই অনর্থক বিষয় নিয়ে সে আলোচনা করেছে? অবশ্যই এর পেছনে কোনো রহস্য লোকায়িত আছে। আমরা হলফ করে বলতে পারি ইংরেজদের উদ্দেশ্য পুরা করার জন্যই সে এগুলো করেছে। আপনি তাদের বক্তাদের দেখবেন এই আকীদা বিশ্বাস গুলোই তারা ওয়াজ মাহফিলে বলে বেড়ায়। আর জনতার মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাদের মতের বিরোধী আলেমদের গালিগালাজ করাই যেন তাদের ইবাদত। আর তারা গালি দিবে না কেন! তাদের গুরু আহমাদ রেজা খানই তো গালাগালি করতো। একটা হাদীস আছে,

     ‏ "‏ وَلَدُ الزِّنَا شَرُّ الثَّلاَثَةِ ‏"‏ ‏

    ' জারজ সন্তান তিন নাম্বার দুষ্টু।' ( আবু দাউদ, হা/ ৩৯৬৩)

    এ হাদীসটা বলা হয় তখন, যখন দুষ্টু পিতার সন্তান তার থেকে বেশি দুষ্টু হয়। আহমাদ রেজা খান আলেমদের কুকুর, শুকুর, লম্পট, হীন লোক, কাফের বলতো। কিন্তু সে জারজ সন্তান বলতো না। তার অনুসারীরা বর্তমানে একধাপ এগিয়ে। তারা বলে, ওয়াহাবীরা জারজ সন্তান। আল্লাহ তাআলা তাদের হেদায়াত দান করুন আমীন।


    তার মৃত্যু: ১৯২১ সালে ৬৮ বয়সে সে মৃত্যুবরণ করে।

    তার মৃত্যু সম্পর্কেও আজগুবি কিছু কথা আছে। যেমন বলা হয় তার লাশ বহন করে ফেরেশতাদের একটি দল। তার কবর থেকে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে। আরো কত কী! এক কথায় যদি বলি , তার সম্পর্কে তার ভক্তরা যা বলে সবই মিথ্যা। 

     

     বর্তমানে তার মতাদর্শী কিছু বক্তা:

     প্রথমে একটু কথা বলে নেই। অনেক পাঠক আছেন বলবেন, আপনি কেন তাদের নাম উল্লেখ করে গিবত করলেন ? তাদের উদ্দেশ্যে হাদীস,

     আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলো। তিনি লোকটিকে দেখে বললেন, 'সে সমাজের নিকৃষ্ট লোক এবং সমাজের দুষ্ট সন্তান।' এরপর সে যখন এসে বললো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনন্দ সহকারে তার সাথে মেলামেশা করলেন। লোকটি চলে গেলে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন তখন তার ব্যাপারে এমন বললেন, পরে তার সাথে আপনি আনন্দচিত্তে সাক্ষাৎ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ' হে আয়েশা! তুমি কখন আমাকে অশালীন দেখেছো? কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক দিয়ে  মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি, যার দুষ্টামির কারণে মানুষ তাকে ত্যাগ করে।' (বুখারী, হা/ ৬০৩২)

    ইমাম কুরতুবী রহিমাহুমুল্লাহ এই হাদীসের আলোকে বলেন, বেদয়াত প্রচারকারীদের গিবত করা জায়েয।

     (ফাতহুল বারী, ১৩খন্ড, পৃঃ৪৮৫  হা/ ৬০৩২)

    ইমাম বুখারী জালেম, ফাসেক, মুজাহির (যারা পাপ করে মানুষের কাছে বলে বেড়ায়) ও বিদয়াতিদের গিবাত বা সমালোচনা করা যাবে এ বিষয়ে একটা সতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন।(ফাতহুল বারী, ১৩খন্ড, পৃঃ৫০৭ হা/ ৬০৫৪)


    তার মতাদর্শীদের শীর্ষে আছে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, কফিল উদ্দিন সালেহী,আলাউদ্দিন জিহাদী, হাসানুর রহমান নকশবন্ধী, গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, সুফিয়ান কাদেরী, হাসান আজহারী, মোকাররম বারী, সাইফুল আজম আজহারী, আশরাফুজ্জামান কাদেরী, মিসবাহুর রহমান ও ওলিউল্লাহ আশেকী প্রমুখ। তারা আহমাদ রেজা খানের মতাদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আল্লাহ তাআলা তাদের হেদায়াত দান করুন  এবং তাদের ভ্রষ্টতা থেকে জাতিকে হেফাজত রাখুন আমীন।

    saidur rahman

    Rafsan Jani

    Next Post Previous Post
    2 Comments
    • Siam
      Siam ৬ আগস্ট, ২০২৩ এ ২:১৬ AM

      Masha allah

    • Lipi
      Lipi ৩১ আগস্ট, ২০২৩ এ ১০:২৬ PM

      MashaMas allah

    Add Comment
    comment url