ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার এ যুগে দ্বীনী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে আমার কলিজা নিংড়ানো নসীহত
ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার এ যুগে দ্বীনী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে আমার কলিজা নিংড়ানো নসীহত বর্তমান যুগ ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার যুগ। এই ফিতনার স্রোতে ঈম...
ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার এ যুগে দ্বীনী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে আমার কলিজা নিংড়ানো নসীহত বর্তমান যুগ ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার যুগ। এই ফিতনার স্রোতে ঈম...
ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার এ যুগে দ্বীনী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে আমার কলিজা নিংড়ানো নসীহত বর্তমান যুগ ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার যুগ। এই ফিতনার স্রোতে ঈম...
যিকির অর্থ কি যিকির অর্থ আল্লাহ তাআলা কে স্মরণ করো। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَاذۡكُرُوۡنِیۡۤ اَذۡكُرۡكُمۡ وَ اشۡكُرُوۡا ل...
শ য়তান সবচেয়ে বেশি মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে পারে পোশাক খোলার মাধ্যমে। এজন্যই সে সর্বপ্রথম আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালাম থেকে পোশাক...
লগইন করুন ভুল ভাববেন না,একটু আপনার পরিচয় জানতে চাচ্ছি। ...
জাহেলী যুগে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোক উৎফুল্লতার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করছে। আশানুরূপের চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় রীতিমতো তার মনটা বেশ পুলকি...
ইসলাম কখনো অমুসলিমদের সাধারণ বন্ধু বানাতে নিষেধ করেনি। বরং অভিভাবক বা অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাতে নিষেধ করেছে।(2) সাধারণ বন্ধু আর অভিভাবক বা অন্...
প্রিয় হে, জীবন সায়াহ্নে তোমাকে দু'চারটি কথা বলবো, যা আমি বহুদিন যাবত বুকে লালন করে এসেছি। প্রতিটি কথাই বলবো বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ।...
সন্তান ও আকীকা বিষয়ক নির্দেশিকা
বই পড়তে বামে সোয়াইপ করুন 👈
একটা কথা মনের মাঝে গেঁথে রাখুন। নবী রাসুলরা হচ্ছেন কন্যার বাবা। আমাদের প্রিয় নবীর চারজন কন্যা সন্তান ছিল। আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ভালো মানুষ? তাঁর যদি কন্যা সন্তান হয় তাহলে আপনার হলে সমস্যা কি? নবী রাসুলদের মতো আপনিও কন্যা সন্তানের বাবা। এই লকব পেতে কি আপনার মন সায় দেয় না? কখনো চিন্তা করবেন না। দেখুন, আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে কত বড়ো বড়ো উপহার দিচ্ছেন।
مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ وَأَطْعَمَهُنَّ وَسَقَاهُنَّ وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ - كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِকারো তিনটি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করলে, যথাসাধ্য তাদের পানাহার করালে ও পোশাক-আশাক দিলে, তারা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হবে। (ইবনে মাজাহ, হা/ ৩৬৬৯)
কোনো ব্যক্তির দুটি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করলে যত দিন তারা একত্রে বসবাস করবে, তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (ইবনে মাজাহ, হা/৩৬৭০)
আপনি যে আপনার স্ত্রী কে বিয়ে করেছেন, বলুন তো তিনি ছেলে নাকি মেয়ে? অবশ্যই তিনি মেয়ে। কারণ ছেলে মানুষ কে তো আর কেউ বিয়ে করে না। এখন কথা হচ্ছে সবার যদি শুধু ছেলে সন্তান হয় তাহলে এই ছেলেরা বিয়ে করবে কাদের? মেয়ে পাবে কোথায়? এজন্যই আল্লাহর সৃষ্টির কারিশমা বড়ই নিখুঁত। তিনি কাউকে ছেলে আবার কাউকে মেয়ে আবার কাউকে দুটিই দান করেন।
আপনাকে আমি একটা ভরসার বাণী শুনাচ্ছি। আপনার চারজন কন্যা সন্তান আছে? কোনো টেনশন নেই। আপনি অন্তত নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবে না, লুটোপুটি খেতে হবে না বৃদ্ধ বয়সে মলমূত্রের সাথে। আপনার অসুখ বিসুখ হলে এই কলিজার টুকরোরা দুর্বার গতিতে আপনার কাছে ছুটে আসবে। আপনার ক্ষীণকায় দেহের যত্ন নিবে, ময়লা কাপড় ধুয়ে দিবে, অপরিচ্ছন্ন অপরিপাটি ঘরদোর পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে দিবে।
ছয় ছেলের বাবা মা কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমে আছে। কিন্তু ছয় মেয়ের বাবা মা বৃদ্ধাশ্রমে নেই। একজন না একজন আপনাকে ঠাঁই দিবেই। নয় কন্যা সন্তানের মাকে দেখেছি আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে নাতিপুতি নিয়ে খুব ভালোভাবে দিন কাটাচ্ছেন।
আবার এও দেখেছি চার ছেলের মা মানুষের ধারে ধারে ভিক্ষা করে চলছে। তাই আপনাকে বলছি আপনি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কন্যা সন্তান জন্ম গ্ৰহণ করায় মনোক্ষুণ্ন হবেন না। এটা জাহেলী যুগের মানুষের বৈশিষ্ট্য। আপনার মাঝে যেন এই বৈশিষ্ট্য না থাকে।
অনেক বাবা তো কন্যা সন্তান কে রাগ করে লেখাপড়াই করান না। বলেন, মেয়ে মানুষ এতো লেখাপড়া করে কী হবে! যত্তই লেখাপড়া করুক, দিনশেষে পাতিল মাস্টার। মানেটা মনে হয় আপনি বুঝেননি। যত শিক্ষিত নারীই হোক তাকে কিন্তু রান্নাবান্না করতে হয়, এটাই বুঝাতে চাচ্ছেন তিনি। ছেলে কে স্কুলে পড়ান, বিকেলে বাড়িতে শিক্ষক রেখে আলাদাভাবে পড়ান, তার জন্য আলাদা যত্ন, কিন্তু মেয়ের বেলায় একেবারে অনিহা প্রকাশ করেন।
বলেন, ক্লাস নাইনের পরেই বিয়ে দিয়ে দিবো। এত্ত লেখাপড়ার দরকার নেই। আমি একটা লোককে দেখেছি, তার তিনটা মেয়ে ছিল। কোনো ছেলে ছিল না। বড় মেয়েকে পনেরো বছর বয়সে আর মাঝারো মেয়েকে এগারো বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, মেয়ে মানুষ এতো লেখাপড়া করে কী হবে! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপদ বিদায় করা যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তাদের মতামত না নিয়ে, বয়সে তাদের দুইগুণ বড় ছেলের সাথে তাদের বিয়ে দিচ্ছে! আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন!
প্রিয় ভাই! আপনাকে একটা কথা বলি, আপনি যদি বুখারীর জগত বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্ৰন্থ ফাতহুল বারী পড়েন তাহলে সেখানে দেখতে পাবেন হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ তার কিতাবে প্রায় জায়গায় একটা বর্ণনা এভাবে নিয়ে এসেছেন, "কারিমার বর্ণনা অনুযায়ী এমন"। এর মানে হচ্ছে কয়েকজন মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ এর কিতাবের পান্ডলিপি লেখেছেন। তাদের মাঝে একজন হচ্ছেন কারীমা। তিনিও পান্ডলিপি লেখেছেন। তার পান্ডলিপিতে বর্ণনাটা এভাবে এসেছে সুবহানাল্লাহ!
একজন মেয়ে মানুষ মুহাদ্দিস! আপনি কি কল্পনা করতে পারেন! একজন মেয়ে কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে মুহাদ্দিস হতে পারে! আমি প্রায়ই কারীমা নাম্মী এই মুহাদ্দিস মেয়েকে নিয়ে ঈর্ষা করি। ইশ! আমি যদি তার মতো হতে পারতাম! হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ এর মতো এত বড় একজন বিদ্বান কত সম্মানের সাথে তার নাম উল্লেখ করতেন। আহ! আমার মেয়ে যদি এমন হতো! আপনার কি মন চায় না আপনার মেয়ে এমন হোক? আমার তো খুব মন চায়, হায় আল্লাহ! আমার মেয়ে যদি এমন হতো! আপনার মেয়ে হয়েছে এজন্য তাকে অবহেলা করে রেখে দিয়েন না। তাকে পড়ালেখা করান। সেও যোগ্য হবে ইনশাআল্লাহ।
দেখুন, দেশে বর্তমানে ভুরি ভুরি নারী যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তার আছে। একটা সময় সিজার করার জন্য নারী ডাক্তার পাওয়া যেত না। এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেক পাওয়া যায়! আপনার কি মনে চায় না আমার মেয়ে মানুষের অন্তরের ডাক্তার হবে! মানুষের দেহের রোগ নির্ণয় করার জন্য তো কত নারী ডাক্তার আছে! আমার মেয়েটা মানুষের অন্তরের রোগ নির্ণয় করবে! আমার মেয়েটা কারীমার মতো জগত বিখ্যাত বিদুষী হবে! আমার মেয়ে মানুষের অন্তরের চিকিৎসা করবে! আজ নারীদের মাঝে মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফতি নেই বললেই চলে! কিন্তু অসংখ্য ডাক্তার আছে! আপনি আপনার মেয়েকে মুহাদ্দিস বা মুফাসসির অথবা মুফতি বানান!
নারীদের গোপন অনেক মাসালা তারা চোখলজ্জায় অনেক সময় আলেমদের কাছে বলতে পারে না। আপনার মেয়ে কে মুফতি বানান। বাড়িতে বসে বসে আপনার মেয়ে নারীদের গোপন মাসালাগুলোর সমাধান দিবে! আপনার মেয়ে বাড়িতে থেকে যে সকল নারী কুরআন পড়তে পারে না তাদের কুরআন শিখাবে। দৃষ্টিভঙ্গি একটু পরিবর্তন করুন। পৃথিবীতে তো আর সব সময় বেঁচে থাকবেন না। আপনি মরেও অমর থাকবেন। কবরে শুয়ে শুয়ে নেকি পাবেন।
শুনুন, আমাদের মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু আনহা কিন্তু নারী ছিলেন! তিনি কিন্তু মুহাদ্দিস ছিলেন। তার সময়ে বড় বড় সাহাবী, তাবেঈ কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তাদের কাছে ওই বিষয়ের জ্ঞান না থাকলে সরাসরি চলে যেতেন আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রহিমাহুল্লাহু আনহার কাছে। তিনি সুন্দর করে দলীলের আলোকে বুঝিয়ে দিতেন।
আপনি আপনার মেয়ে কে নারীদের জন্য একটা আদর্শ রেখে যান। আমি অনেক বাবাকে দেখেছি চারটি মেয়ে জন্ম গ্ৰহণ করার কারণে তাদের আদর করে না। সারাক্ষণ ঘ্যান ঘ্যান করে, ধমক দিয়ে কথা বলে। মেয়েদের দেখলেই যেন তার মাথায় খুন চাপে। এটা আদতেই ঠিক নয়। মেয়েদের সাথে এমন আচরণ করবেন না। এই মেয়েদের কী দোষ? স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাদের সৃষ্টি করেছেন। আপনি কি আল্লাহর উপর অসন্তুষ্ট? আপনার এই মনোভাব পরিহার করুন।
বাচ্চা জন্ম গ্ৰহণ করার পর তার কানের কাছে আস্তে আস্তে আযান দেয়া।
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَذَّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ - حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ - بِالصَّلاَةِউবাইদুল্লাহ ইবনু আবু রাফে তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা যখন আলী রাদিআল্লাহু আনহুর পুত্র হাসান রাদিআল্লাহু আনহু কে প্রসব করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কানে সালাতের আযানের ন্যায় আযান দিয়েছিলেন। (আবু দাউদ, হা/৫১০৫)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দেয়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস সহীহ নয়। শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস জাল (সিলসিলা আহাদীসুস যঈফা, হা/৩২১)। আব্দুর রহমান মোবারকপুরী বলেছেন, এই সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস দুর্বল। (তুহফাতুল আহওয়াযী, হা/১৫১৪, খন্ড, ৪/৪৮৮)। সুতরাং এই হাদীসের উপর আমল করা যাবে না। বরং সাধারণভাবে বাচ্চার কানের কাছে আস্তে আস্তে আযান দিবেন। বাচ্চা জন্মগ্রহণ করার পরপরই আযান দিতে হবে। যদি কোনো কারণে দিতে না পারেন তাহলে পরবর্তীতে আর দিতে হবে না।
কানের কাছে আস্তে আস্তে আযান দেয়ার হিকমা হচ্ছে, বাচ্চার কানে যেন সর্বপ্রথম তাওহীদের বাণী পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে বড় হওয়ার পরে এর প্রতিক্রিয়া যেন তার মাঝে থাকে। সে যেন শিরকে লিপ্ত না হয়। নারী পুরুষ যে কেউ আযান দিতে পারবে। অনেক মানুষ মনে করে নারীরা আযান দিতে পারবে না। নারীরাও বাচ্চা জন্ম গ্ৰহণ করার পর আযান দিতে পারবে। তবে নারীরা সালাতের আযান দিতে পারবে না।
আশপাশে কেউ না থাকলে বাচ্চার বাবা বিদেশ থেকে যদি মোবাইল ফোনে আযান দেয় আর বাচ্চার মা অথবা অন্য কেউ মোবাইল টা বাচ্চার কানের কাছে ধরে রাখে তাহলেও এই আযান যথেষ্ট হবে। আগে আমরা দেখতাম ঘরের বাহিরে বাচ্চার বাবা আযান দেয়। আরে ভাই, ঘরের বাহিরে আযান দিলে কী লাভ! বাচ্চা তো শুনতে পাচ্ছে না। সুতরাং বাচ্চার কানের কাছে আস্তে আস্তে আযান দিতে হবে। ঘরের বাহিরে নয়।
এখানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া সমীচীন মনে করছি, অনেক মানুষ বলে থাকেন আমরা যে, রুহের জগতে আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করে এসেছিলাম যে, 'তিনি আমাদের রব' একথা সঠিক নয়। কারণ আমরা যদি অঙ্গীকার করে আসতাম তাহলে পৃথিবীতে অবশ্যই আমাদের ওই অঙ্গীকারের কথা মনে থাকতো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমাদের কারোই ওই অঙ্গীকারের কথা মনে নেই।
এ প্রশ্নের জবাবে আমরা বলবো, পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আপনার কানে যে আযান দেয়া হয়েছে এ কথা কি আপনার মনে আছে? আপনার মনে নেই। ঠিক তদ্রূপভাবে পৃথিবীতে আসার আগে রুহের জগতে আপনি আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করে এসেছেন। কিন্তু এটা আপনার মনে নেই। শিশু বেলার, কৈশোরের অনেক কিছুই আমাদের মনে থাকে না। এর মানে এটা নয় যে, আমরা ওই কাজটি বা অঙ্গীকারটি করিনি। বরং করেছি কিন্তু আমাদের মনে নেই।
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন,
أنَّ رَسولَ اللهِ ﷺ كانَ يُؤْتى بالصِّبْيانِ فيُبَرِّكُ عليهم وَيُحَنِّكُهُمْরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বাচ্চা নিয়ে আসা হলে তিনি তাদের জন্য বরকতের দুআ করতেন এবং তাদের তাহনীক করতেন। (মুসলিম, হা/২১৪৭)।
কিছু বিদ্বান বলেন, তাহনীক এটা শুধু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথেই খাস। অন্য কেউ বাচ্চাদের তাহনীক করতে পারবে না। কিন্তু সঠিক মত হচ্ছে তাহনীক এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাস নয়। বরং এখনো পর্যন্ত এর উপর আমল করা যাবে। কারণ সাহাবী ও তাবেঈদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা তাদের সন্তানদের তাহনীক করতেন।
জন্ম গ্ৰহণ করার পর পরই দুধ খাওয়ানোর আগে তাহনীক করতে হবে। যদি দুধ খেয়ে ফেলে তাহলে আর তাহনীক করতে হবে না। তাহনীক করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেন বাচ্চার পেটে সর্বপ্রথম মিষ্টি জাতীয় খাবার প্রবেশ করে। কারণ মিষ্টি জাতীয় খাবারের একটা বরকত রয়েছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর সাতটি আজওয়া খেজুর খেতে বলেছেন।
مَن تَصَبَّحَ بسَبْعِ تَمَراتٍ عَجْوَةً، لَمْ يَضُرَّهُ ذلكَ اليومَ سُمٌّ، ولا سِحْرٌযে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে। ওইদিন বিষ ও জাদু তাকে আক্রান্ত করতে পারবে না। (মুসলিম, হা/২০৪৭)।
এমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর দিয়ে ইফতার করতে বলেছেন।
إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنَّهُ بَرَكَةٌ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ تَمْرًا فَالْمَاءُ فَإِنَّهُ طَهُورٌযখন তোমাদের কোনো লোক ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা, এতে বরকত আছে। যদি সে খেজুর না পায় তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা, পানি হলো পবিত্র। (তিরমিজী, হা/ ৬৫৮)
খেজুর দিয়ে ইফতার করতে বলা হয়েছে কেন? কারণ এর মাঝে বরকত রয়েছে। ইফতার করার আগে পেট খালি থাকে। একটা বাচ্চা জন্ম গ্ৰহণ করার পর তার পেটেও যেন বরকতময় মিষ্টি জাতীয় খাবার প্রবেশ করে এটাই নবী (সা.) চেয়েছেন। ছেলে বা মেয়ের বাবা-মা অথবা অন্য যে কেউ তাহনীক করাতে পারবে। সর্বদা তাকওয়াবান ব্যক্তি দিয়ে করানোর চেষ্টা করতে হবে।
বাচ্চা জন্মের সাত দিনের দিন আকীকা করা সুন্নাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُسَمَّىপ্রত্যেক শিশু তার আকীকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা করতে হয়, মাথার চুল ফেলতে হয় এবং নাম রাখতে হয়। (আবু দাউদ, হা/২৮৩৮)
কিছু মাযহাবী ভাই মনে করেন আকীকা করা শরীআত সম্মত নয়। তাদের এই কথা স্পষ্ট হাদীস বিরোধী। ইমাম শাওকানী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: لا أثر للآثار بعد صحة الأخبار (বিশুদ্ধভাবে হাদীস প্রমাণিত হওয়ার পরে কারো কথা গ্রহণযোগ্য নয়)।
ও এর ইসলামী বিধান
পড়তে বামে সোয়াইপ করুন 👈
এমন কোনো দিন গত হয় না যেদিন পরকীয়ার মাধ্যমে যিনা ব্যাভিচার হয় না। বর্তমানে পরকীয়ার ব্যাপকতা হু হু করে বাড়ছে। আমরা সংবাদ মাধ্যম পেপার পত্রিকায় যা দেখি তা গুটি কয়েকটি মাত্র। কিন্তু এর আড়ালে যে কত ব্যভিচার হয় তা আল্লাহ মালুম।
পেপার পত্রিকা খুললেই দেখা যায় অমুক স্থানে অমুক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে অমুক পালিয়েছে, অমুক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে কর্মচারী পালিয়েছে। অমুক স্বামী পরকীয়ার জেরে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। অমুক স্ত্রী পরকীয়ার জেরে স্বামী কে হত্যা করেছে। অমুক স্থানে পরকীয়ার জেরে নিজ সন্তান কে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
‘পরকীয়া’ বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ। পরকীয়া হ’ল বিবাহিত কোনো নারী বা পুরুষ নিজ স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়া। সমাজে এটি নেতিবাচক হিসাবে গণ্য।
আপনি একজন মানুষকে হত্যা করেছেন। এরপর বিচারক আপনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিনক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। જলের মাওলানা সাহেব আপনাকে কালেমা পড়িয়ে দিয়েছেন। এই বুঝি আপনি দড়িতে ঝুলে যান। ঠিক এমন সময় আপনি যাকে হত্যা করেছেন তার আত্মীয় স্বজনরা যদি বলে, আমরা তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম তাহলে আপনি ফাঁসি থেকে বেঁচে গেলেন।
কিন্তু একজন বিবাহিত ব্যক্তি তার প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িত হয়ে যিনা করেছে। এখন বিচারক ফয়সালা করেছে তার মৃত্যুদণ্ড হবে। ওই প্রবাসী ব্যক্তি যদি ফোন করে বলেও আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি তাহলেও তাকে কেউ মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না।
শয়তান চায় মানুষকে জাহান্নামী করতে। যখন আপনি শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে যিনায় লিপ্ত হন, তখন শয়তান বলে,
كَمَثَلِ الشَّیۡطٰنِ اِذۡ قَالَ لِلۡاِنۡسَانِ اكۡفُرۡ ۚ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّنۡكَতাদের তুলনা হচ্ছে শয়তান, যখন সে মানুষকে বলে, কুফরী করো... (সূরা হাশর, ৫৯/১৬)।
বলুন তো, যে নারীর সাথে যিনা করেছেন ওই নারীর যা আছে আপনার স্ত্রীর কি তা নেই? তাহলে কেন গেলেন? কে এই আনন্দ আপনার ভেতরে জাগ্রত করে দিয়েছে? অবশ্যই শয়তান! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُমহিলারা হচ্ছে আওরাত। সে বাইরে বের হলে শয়তান তাকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করে। (তিরমিজি, হা/১১৭৩)।
কেউ বিধবা নারীকে বিয়ে করতে চায় না। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম উৎসাহিত করেছেন।
«السَّاعِي عَلَى ٱلْأَرْمَلَةِ وَٱلْمِسْكِينِ، كَٱلْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ...»“যে ব্যক্তি বিধবা ও অভাবীদের জন্য চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে মুজাহিদের মতো...” (বুখারী, হা/৬০০৬)।
আপনি প্রায়ই দেখবেন অবিবাহিত অনেক ছেলে একজনের অধীনে থাকা স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। শয়তান ওই নারীকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তা আসামি করেছে।
বিবাহিত পুরুষ অথবা নারী যদি যিনা করে তাহলে তাদের শাস্তি হচ্ছে রজম। তথা পাথর মেরে তাদের হত্যা করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ... إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِيকোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেয়... তিন-তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। (যথা) জানের বদলে জান, বিবাহিত ব্যভিচারী... (বুখারী, হা/ ৬৮৭৮)।
আর অবিবাহিত পুরুষ অথবা নারী যদি যিনা করে তাহলে তাদের শাস্তি হচ্ছে, একশোটি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য ওই এলাকা থেকে বিতাড়িত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
اَلزَّانِیَۃُ وَ الزَّانِیۡ فَاجۡلِدُوۡا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنۡهُمَا مِائَۃَ جَلۡدَۃٍব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। (সূরা নূর, ২৪/২)।
বিবাহিত পুরুষকে আরবিতে مُحْصَنْ ও বিবাহিত নারীকে আরবীতে مُحْصَنَة বলা হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ الَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ الۡمُحۡصَنٰتِ ثُمَّ لَمۡ یَاۡتُوۡا بِاَرۡبَعَۃِ شُهَدَآءَ...আর যারা সচ্চরিত্র নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে না... (সূরা নূর, ২৪/৪)।
مُحْصَنْ শব্দটি এসেছে حِصْنٌ শব্দ থেকে। যার অর্থ হচ্ছে, দুর্গ, কেল্লা। কোনো ব্যক্তি বিয়ে করেছে মানে সে দুর্গের ভেতরে আছে। সে নিজের চরিত্র ঠিক রাখতে পারে। শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে পারে। যখন সে পরকীয়ায় জড়িত হয়ে যিনা করলো, তখন সে সংরক্ষিত দুর্গ থেকে বের হয়ে গেল। আর আমরা সবাই ভালো করেই জানি কেউ যদি সংরক্ষিত দুর্গ থেকে বের হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই শত্রু বাহিনী তাকে হত্যা করবে।
স্বামী পরকীয়ায় জড়িত কি না, তা বোঝা সব সময় সহজ নয়। তবে কিছু লক্ষণ থাকে-
১. অবহেলা : আগে যেভাবে আপনাকে সময় দিত, গল্প করত, এখন হয়তো চুপচাপ থাকে বা কথাবার্তা সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে।
২. পাসওয়ার্ড সিকিউরিটি : হঠাৎ ফোনে লক বা নতুন পিন কোড বসানো আপনার সামনে ফোন ধরতে না চাওয়া। কল এলেই বাইরে চলে যাওয়া।
৩. ফেসবুক : ফোন নয়, ফেসবুক কিংবা অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যমের প্রতি আসক্তির মাত্রার ওপরও নজর দেবেন।
৪. পরিবার : আপনার স্বামী যদি আপনার ও পরিবারের পেছনে কম ব্যয় করেন।
৫. অজুহাত : স্বামী যদি কারণে-অকারণে অজুহাত দেখায়।
৬. নিজেকে গুটিয়ে নেয়া: স্বামী যদি পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে বিনা কারণে।
৭. নতুন কোন নাম: আপনার স্বামীর মুখে যদি নতুন কোনো একটি নাম ঘন ঘন শুনতে পান।
৮. রাগ বা অতিরিক্ত নরম ব্যবহার: অনেক সময় অপরাধ ঢাকতে হঠাৎ করে খুব যত্নশীল ও দয়ালু হয়ে যায়। আবার কখনো আপনার যেকোনো ছোট ভুলেও অস্বাভাবিক রেগে যায়।
৯. যৌনসম্পর্ক : আপনার সঙ্গে যৌনসম্পর্কে সঙ্গী যদি উদাসীনতা দেখান তাহলে আপনি এটি পরকীয়ার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে ধরতে পারেন।
১০. সৌন্দর্য সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন: আপনার স্বামী যদি হঠাৎ নিজের ত্বক, সাজগোজ কিংবা পরিহিত পোশাক-আশাকের দিকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে শুরু করেন।
১১. সময় ব্যবস্থার অস্বাভাবিকতা: বাড়ি ফেরার সময় বদলে যাওয়া। অফিস থেকে নিয়মিত দেরি করে আসা।
১২. অজানা খরচ: টাকা কোথায় যাচ্ছে তা ব্যাখ্যা না করা।
দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা সবার মধ্যে কমবেশি হয়। স্বামী এই ফিতনায় জড়িয়ে গেলে আমরা স্ত্রীকে পরামর্শ দেব-
১. স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস করুন। কোন অবস্থাতেই একজন আরেকজন থেকে পৃথক থাকবেন না।
২. কুরআন-হাদীসের আলোকে তাকে পরকীয়া, অবৈধ প্রেমপ্রীতি ও যিনাব্যাভিচারের ভয়াবহতা, দুনিয়াতে এর কঠিন শাস্তি, আখিরাতের আযাব ইত্যাদি বিষয়গুলো বুঝানো।
৩. তার হিদায়াতের জন্য দয়াময় আল্লাহর নিকট দুআ করা।
৪. স্ত্রীর মাঝে স্বামীর নিকট অপছন্দীয় কোন আচার-আচরণ থাকলে তা পরিবর্তন করা।
৫. প্রয়োজনে স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে আরেকটি বিয়ে করার সম্মতি দেয়া।
৬. এরপরেও সঠিক পথে না ফিরলে সাক্ষ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে পারিবারিক বা সামাজিক সালিশ অথবা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৭. এগুলোর মাধ্যমে কোন উপকার না হলে, হয়তো স্ত্রীকে ধৈর্য ধারণ করে স্বামীকে এ পথ থেকে ফিরানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যথায় সবশেষে তার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করে পৃথক হয়ে যেতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও গোটা মুসলিম উম্মাহকে এই ধরনের ভয়াবহ ফিতনা থেকে হেফাজত করুক।
...