যিকির ও দুআ নিয়ে কিছু কথা
যিকির অর্থ কি
যিকির অর্থ আল্লাহ তাআলা কে স্মরণ করো। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَاذۡكُرُوۡنِیۡۤ اَذۡكُرۡكُمۡ وَ اشۡكُرُوۡا لِیۡ وَ لَا تَكۡفُرُوۡنِ,
তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় করো, আমার সাথে কুফরী করো না। (সূরা বাকারা, ২/১৫২)।
যিকির বা আল্লাহকে স্মরণ কয় ভাবে করা যায়?
যিকির বা আল্লাহকে স্মরণ তিনভাবে করা হয়ে থাকে।
১. মুখ দ্বারা।
যেমন নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
" أَفْضَلُ الذِّكْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ الْحَمْدُ لِلَّهِ "
“লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ” অতি উত্তম যিকির এবং “আলাহামদু লিল্লাহ্” অধিক উত্তম দু‘আ।
(তিরমিজি, হা/৩৩৮৩)।
২. অন্তর দ্বারা।
যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ لَا تُطِعۡ مَنۡ اَغۡفَلۡنَا قَلۡبَهٗ عَنۡ ذِكۡرِنَا وَ اتَّبَعَ هَوٰىهُ وَ كَانَ اَمۡرُهٗ فُرُطًا
ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার যিকির থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং যার কর্ম বিনষ্ট হয়েছে। (সূরা কাহফ, ১৮/২৮)।
৩. অঙ্গ প্রতঙ্গের দ্বারা।
যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
اَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِكۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِكُمۡ خَیۡرٌ لَّكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
হে মুমিনগণ, যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমা, ৬২/৯)।
উপরে বর্ণিত তিনটি অঙ্গ দ্বারা যিকির করা যায়।
যিকির করার সময় যদি মুখ, অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এই তিনটি জিনিস একত্রিত হয় তাহলে এটা সবচেয়ে উত্তম যিকির। কারণ এখানে যিকির করার তিনটি অঙ্গই একত্রিত হয়েছে।
অন্তরের যিকির হচ্ছে আল্লাহর সৃষ্টি ও নিদর্শন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। মুখের যিকির হচ্ছে কুরআন তেলাওয়াত করা, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা এগুলো পাঠ করা। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যিকির হচ্ছে রুকু করা, সাজদা করা ইত্যাদি। এই তিনটি অঙ্গের যিকিরের মাঝে সবচেয়ে উত্তম জিকির হচ্ছে অন্তর দ্বারা যিকির করা। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন,
لَا تُطِعۡ مَنۡ اَغۡفَلۡنَا قَلۡبَهٗ عَنۡ ذِكۡرِنَا وَ اتَّبَعَ هَوٰىهُ وَ كَانَ اَمۡرُهٗ فُرُطًا
ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার যিকির থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং যার কর্ম বিনষ্ট হয়েছে। (সূরা কাহফ, ১৮/২৮)।
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুখের কথা বলেননি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কথা বলেননি। বরং অন্তরের কথা বলেছেন।
দুআর অর্থ কী?
দুআর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কে ডাকা, তার কাছে কোনো কিছু চাওয়া। দুআ অর্থ আবার ইবাদত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ قَالَ رَبُّكُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَكُمۡ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَكۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ
আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সূরা গাফির, ৪০/৬০)।
এই আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তাআলা দুআ করা কে ইবাদত বলেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
" الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ " .
দু‘আও একটি ‘ইবাদাত। (আবু দাউদ, হা/১৪৭৯)
দুআ অর্থ আবার দীন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ اِذَا غَشِیَهُمۡ مَّوۡجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللّٰهَ مُخۡلِصِیۡنَ لَهُ الدِّیۡنَ
আর যখন ঢেউ তাদেরকে ছায়ার মত আচ্ছন্ন করে নেয়, তখন তারা একনিষ্ঠ অবস্থায় আনুগত্যভরে আল্লাহকে ডাকে। (সূরা লোকমান, ৩১/৩২)।
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা দুআ কে দীন বলেছেন।
দুআ কবুল হওয়ার শর্ত সমূহ:
১. হালাল খাবার খাওয়া। হারাম খাবার থেকে বিরত থাকা।
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا} [المؤمنون: 51]، وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: 172]. ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ، أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لَهُ؟»
আল্লাহ্ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসকেই কবুল করেন। আল্লাহ্ মুমিনদেরকে সেই নির্দেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলদেরকে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: ‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র জিনিস থেকে আহার কর এবং সৎকর্ম কর।’ (সূরা মু’মিনূন: ৫১)। আবার বলেছেন: ‘হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের জন্য যে পবিত্র জিনিসগুলো রিযিক দিয়েছি তা থেকে তোমরা আহার কর।’ (সূরা বাকারা: ১৭২)।”
তারপর নবী ﷺ এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকে, চুল এলোমেলো, ধুলোমাখা, সে দুই হাত আকাশের দিকে তুলে বলে: ‘হে আমার প্রভু! হে আমার প্রভু!’ অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম, আর হারাম দিয়েই সে লালিত-পালিত হয়েছে। এ অবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?”
(মুসলিম, হা/১০১৫)।
উপরে বর্ণিত হাদিসটির প্রতি লক্ষ্য করুন। লোকটি দুআ কবুল হয়নি কেন? কারণ সে হারাম খাদ্য খেত এবং হারাম কাপড় পরিধান করতো।
২. দুআ করার সময় অন্তর উপস্থিত থাকা :
দুআ করার সময় অন্তর উদাসীন থাকা যাবে না। বরং দেহ ও অন্তর উপস্থিত থাকতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ لاَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لاَهٍ
জেনে রাখো, আল্লাহ এমন দোয়া কবুল করেন না যা গাফেল (অমনোযোগী) ও উদাসীন অন্তর থেকে আসে।
(তিরমিজী, হা/৩৪৭৯)।
৩. দুআ কবুল হবে এই বিশ্বাস রাখা:
আপনার দুআ কবুল হবে মনে মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«ادْعُوا اللهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ،
নিশ্চিত দুআ কবুল হবে এই বিশ্বাস নিয়ে তোমরা দোয়া করবে।(তিরমিজী, হা/৩৪৭৯)।
৪. পাপের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের কোনো দুআ করা যাবে না:
যেমন কেউ দুআ করার সময় কোন পাপের দুআ করছে। কে বলছে, হে আল্লাহ, অমুক মেয়ের সাথে আমার যেন প্রেম হয়, হে আল্লাহ অমুকের সাথে যেন আমার পরকীয়া হয়। এই দুআ করলে কবুল হবে না। অথবা কেউ আত্মীয়তা ছিন্ন করার জন্য দুআ করছে। যেমন সে এভাবে বলছে, হে আল্লাহ, আমার যেন অমুকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকে। এভাবে দুআ করলে দুআ কবুল হবে না।
নবী সালাম বলেছেন,
«يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ،
“বান্দার দুআ কবুল হয়, যতক্ষণ না সে পাপের জন্য কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম, হা/২৭৩৫)
দুআর আদব সমূহ
১. দুআ করার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করা ও তার গুণকীর্তন করা।
২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর উপর দরুদ পাঠ করা। যেমন দুআর শুরুতে দুরুদে ইব্রাহিম পড়া অথবা হাদীসে বর্ণিত অন্য কোনো দরুদ পড়া।
৩. হাত উত্তোলন করে দুআ করা।
হাত উত্তোলন করে দুআ করলে দুআ কবুল হবে। নবী সাল্লাহু আলাই সালাম বলেন,
«إِنَّ رَبَّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَيِيٌّ كَرِيمٌ، يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا».
“তোমাদের প্রতিপালক (আল্লাহ) অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। তাঁর বান্দা যখন তাঁর দিকে হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি লজ্জা বোধ করেন যে, সে দুই হাত খালি ফিরিয়ে দেন।(আবু দাউদ, হা/১৪৮৮)।
তবে যে সকল জায়গার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হাত উত্তোলন করেনি ওই জায়গার মধ্যে হাত উত্তোলন করা যাবে না। যেমন: খুতবা চলাকালে দ্বিতীয় খুতবার মধ্যে ইমাম যখন দুআ করেন, তখন হাত উত্তোলন করা যাবে না । বরং ইমাম দাঁড়িয়ে দুআ করবেন আর মুসল্লিরা আমীন আমীন বলবেন। তবে ইস্তিসকার (বৃষ্টি প্রার্থনার ) দুআর ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব দুআয় হাত তুলবেন। সালাতের শুরুতে দুআ করার সময় হাত উঠাবে না। দুই সিজদার মাঝে দুআর ক্ষেত্রে হাত উঠানো যাবে না। তাশাহুদ এর মাঝে দুআর ক্ষেত্রে হাত উঠানো যাবে না। বিতরের কুনুত এর মধ্যে হাত উঠানো যাবে না। তবে কাফেরদের বিরুদ্ধে বদ দুআর ক্ষেত্রে যে কুনুত পড়া হয়, যেটাকে কুনুতে নাযিলা বলা হয় সেটার মধ্যে হাত উঠানো যাবে। ওই কুনুতের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম হাত উঠিয়েছেন এটা প্রমাণিত। কিন্তু বিতরের কুনতের মধ্যে হাত উঠিয়েছেন এটা প্রমাণিত নয়। তাই বিতরের দুআর সময় হাত উঠাবে না। সালাত শেষ করে হাত উঠিয়ে দুআ করা যাবে না। জানাযার সালাতের পরে হাত উঠিয়ে দুআ করা যাবে না। বরং সকলে মনে মনে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ:
«اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ»
নবী ﷺ যখন কোন মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করতেন, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন: “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার স্থিরতা কামনা করো। কেননা তাকে এখন প্রশ্ন করা হচ্ছে। (আবু দাউদ, হা/৩২২১)।
৪. শুধু নিজের জন্য দুআ করা যাবে না:
আপনি যদি ইমাম হন তাহলে আপনার মুক্তাদীদের জন্যও দুআ করবেন। শুধু নিজের জন্য দুআ করবেন না। বিতরের কুনুতে এভাবে দুআ করবেন না,
اللهم اهدني
বরং এভাবে বলতে হবে للهم اهدنا
কেননা নবী সাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন,
" ثَلاَثٌ لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يَفْعَلَهُنَّ لاَ يَؤُمُّ رَجُلٌ قَوْمًا فَيَخُصُّ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ دُونَهُمْ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ خَانَهُمْ وَلاَ يَنْظُرُ فِي قَعْرِ بَيْتٍ قَبْلَ أَنْ يَسْتَأْذِنَ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ دَخَلَ وَلاَ يُصَلِّي وَهُوَ حَقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ " .
তিনটি কাজ করা কারো জন্য হালাল নয়। (এক) কোন ব্যাক্তি ইমাম হয়ে অন্যের জন্য দু’আ না করে শুধুমাত্র নিজের জন্য দু’আ করা। এরূপ করলে সে তো তাদের সাথে প্রতারণা করল। (দুই) অনুমতি গ্রহণের পূর্বে কেউ কারো ঘরের অভ্যন্তরে উঁকি মেরে দেখবে না। কেননা এরূপ করাটা তার ঘরে প্রবেশেরই নামান্তর। (তিন) পায়খানা-পেশাবের বেগ চেপে রেখে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত কেউ সলাত আদায় করবে না।(আবু দাউদ, হা/ ৯০)।
৫. চিল্লায় চিল্লায় দুআ না করা
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ اذۡكُرۡ رَّبَّكَ فِیۡ نَفۡسِكَ تَضَرُّعًا وَّ خِیۡفَۃً وَّ دُوۡنَ الۡجَهۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَ الۡاٰصَالِ وَ لَا تَكُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِیۡنَ
আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে স্মরণ কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। (সূরা আরাফ, ৭/২০৫)।
আবূ মুসা আশ'আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
*عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال
كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فكنا إذا أشرفنا على واد هللنا وكبرنا ورفعنا أصواتنا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "يا أيها الناس، اربعوا على أنفسكم، فإنكم لا تدعون أصم ولا غائبا، إنه معكم، إنه سميع قريب".
আমরা নবী (সাঃ)-এর সাথে সফরে ছিলাম। যখন আমরা কোনো উপত্যকায় পৌঁছাতাম, তখন আমরা তাওহীদ ও তাকবীরের ধ্বনি তুলতাম এবং আমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যেত। তখন নবী (সাঃ) বললেন: "হে লোকেরা! নিজেদের উপর সহনশীল হও, কেননা তোমরা এমন কাউকে ডাকছো না, যে বধির বা অনুপস্থিত। বরং তোমরা এমন কাউকে ডাকছো, যিনি শ্রবণশক্তিসম্পন্ন, নিকটে এবং তোমাদের সাথে আছেন।" (বুখারী, হা/৬০৪৭)।
৬. দুআ কবুল হওয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা:
অনেকে আছেন দ্রুত দুআ কবুল হোক এজন্য তাড়াহুড়া করেন। এটা ঠিক নয়। বরং সর্বদাই দুআ করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন,
«يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ، مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ»
বান্দার দোয়া সবসময় কবুল হয়, যদি সে অন্যায় কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার জন্য দোয়া না করে এবং (দোয়ায়) তাড়াহুড়া না করে।" (মুসলিম, হা/৬৮২৯)।
আমাদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, প্রতিটি দুআই কবুল হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেন,
«مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ بِهَا إِحْدَىٰ ثَلاَثٍ: إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنْهُ سُوءًا مِثْلَهُ»
"কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি এমন কোনো দুআ করে যাতে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় না থাকে, তবে আল্লাহ তাকে তিনটি জিনিসের যে কোনো একটি দেন: (১) তার দুআ দ্রুত কবুল করেন, (২) তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন, অথবা (৩) তার থেকে কোনো ক্ষতি দূর করে দেন।" (মুসলিম, হা/৬৮২৯)।
নিচের আয়াটার প্রতি লক্ষ্য করুন,
رَبَّنَا وَ ابۡعَثۡ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِكَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُزَكِّیۡهِمۡ ؕ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ
‘হে আমাদের রব, তাদের মধ্যে তাদের থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যে তাদের প্রতি আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে আর তাদেরকে পবিত্র করবে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’। (সূরা বাকারা, ২/১২৯)।
এ আয়াতের মধ্যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মক্কা নগরীতে যেন একজন নবী আসে এই দুআ করেছিলেন। দুই হাজার বছর পর এই দুআ কবুল হয়েছিল। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর দুই হাজার বছর পর মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাই সাল্লাম মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর দুআ যদি দুই হাজার বছর পরে কবুল হয়ে থাকে তাহলে আমাদের এত তাড়াহুড়া করার দরকার কী! তাই আমাদের ধৈর্যর সাথে সর্বদা দুআ করে যেতে হবে।
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে দুআর শর্ত ও আদব রক্ষা করে দুআ করার তৌফিক দান করুন আমীন।
Masha-allah