সূচিপত্র

    ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার এ যুগে দ্বীনী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে আমার কলিজা নিংড়ানো নসীহত


     ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার এ যুগে দ্বীনী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে আমার কলিজা নিংড়ানো নসীহত

    বর্তমান যুগ ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার যুগ। এই ফিতনার স্রোতে ঈমানকে টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন। এমতাবস্থায়, দ্বীনী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে আমার এই কলিজা নিংড়ানো নসীহত। এটি আমার নিজস্ব কোনো কথা নয়, বরং মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর কথা। আমি আশা করি, এই নসীহত আপনাদের ঈমানকে মজবুত করতে সাহায্য করবে।

    ১. সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণ:

    সালাফে সালেহীন তথা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈন এবং তাঁদের যথাযথ অনুসারীগণের বুঝ ও অনুশীলন মোতাবেক কুরআন ও সুন্নাহ মাটির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকুন। মনে রাখবেন, এ অবস্থান থেকে সরে গেলেই পদস্খলন অনিবার্য। তাঁদের পথই একমাত্র সঠিক পথ। তাঁদের দেখানো পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই গোমরাহীর পথে পা বাড়ানো।

    ২. শুদ্ধ দ্বীনী জ্ঞান অর্জন ও আলেম নির্বাচন:

    দ্বীনী ইলমের বর্ম পরে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। দ্বীনী ইলম ছাড়া নিজেকে বাঁচাতে পারবেন না। তবে, বিশুদ্ধ আক্বীদা-মানহাজের অধিকারী, বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য, তাক্বওয়াবান ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী আলেমের কাছ থেকে ছাড়া অন্য কারো থেকে দ্বীনের কোনো ধরনের জ্ঞান নিবেন না। মনে রাখবেন,
    "নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী আলেম ও বক্তার সংখ্যা কিন্তু প্রতিনিয়ত উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আলেম নির্বাচনে খুবই সতর্ক থাকুন।"

    ৩. পথভ্রষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন:

    পথভ্রষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ফেরক্বা বা প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করুন। তাদের সাথে মিশবেন না, তাদের বক্তব্য শুনবেন না, তাদের লেখনি পড়বেন না এবং অনলাইনে বা অফলাইনে কোনোভাবেই তাদের সাথে যুক্ত থাকবেন না। মনে রাখবেন, এরা কিন্তু এখন অফলাইন ও অনলাইনে অনেক সক্রিয়; আপনাকে বিভ্রান্ত করার জন্যই চারিদিকে ফাঁদ পেতে তারা ওঁৎ পেতে বসে আছে। পারলে ‘ফেসবুক’ই বন্ধ রাখুন। আপনার ঈমান রক্ষার জন্য এটি খুবই জরুরি।

    ৪. ফিতনার বিষয়ে কৌতূহল এড়ানো:

    এমনকি “কী বলে শুনি?” “দেখি কী লিখেছে?”— এধরনের মানসিকতা থেকেও কেউ বিদ‘আতী ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ফেরক্বা বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য শোনা, লেখনি পড়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া-সহ তাদের কোনো ধরনের মিডিয়ায় ঢোকা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করুন। মনে রাখবেন, পরীক্ষা করতে গেলে নিজেই পরীক্ষায় পড়ে যেতে পারেন। কিন্তু কেন? কারণ—

    ক. আমাদের পূর্বসূরী বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন:

    আবু ক্বিলাবা -রহিমাহুল্লাহ- বলেন, ‘প্রবৃত্তিপূজারী পথভ্রষ্টদের সাথে ওঠাবসা করবেন না, তাদের সাথে বিতর্কে জড়াবেন না। কেননা আমি আশঙ্কা করি যে, তারা আপনাদেরকে তাদের ভ্রষ্টতার মধ্যে নিমজ্জিত করবে এবং আপনাদের ভালো বিষয়গুলোকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিবে’ (শাত্বেবী, আল-ইতিছাম, ১/১১২)।
    মা‘মার -রহিমাহুল্লাহ- বলেন, একদা ইবনু ত্বাঊস -রহিমাহুল্লাহ- উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় একজন মু‘তাযিলী লোক এসে কথা বলতে শুরু করলে ইবনু ত্বাঊস -রহিমাহুল্লাহ- তাঁর দুই আঙ্গুল তাঁর দুই কানে ঢুকিয়ে দিলেন এবং তাঁর ছেলেকে বললেন, ‘হে বৎস! তোমার দুই আঙ্গুল তোমার দুই কানে শক্ত করে ঢুকিয়ে দাও এবং তার কোনো কথা শ্রবণ করো না’ (বায়হাক্বী, আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বদর, ১/৩২৩)।

    খ. আমাদের হৃদয় অত্যন্ত দুর্বল, আর ফেতনা পাহাড়ের মতো ভারী: ফলে এ দুর্বল হৃদয় ফেতনার ভার নিতে পারে না। অনুরূপভাবে আমাদের হৃদয় অত্যন্ত নরম, ফলে তাতে ফেতনা খুব সহজেই দাগ বসিয়ে দেয়।

    গ. আমাদের হৃদয় স্পঞ্জ-এর মতো: স্পঞ্জ যেমন দুধ, মধু, স্বচ্ছ পানির মতো ভালো তরলও শোষণ করে; তেমনি পেশাব, মদ, পচা পানির মতো মন্দ তরলও শোষণ করে। মানুষের হৃদয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটে। সেজন্য, শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ -রহিমাহুল্লাহ- তাঁর ছাত্র ইবনুল ক্বাইয়্যিম -রহিমাহুল্লাহ-কে নছীহত করে বলেছিলেন, ‘তোমার হৃদয়কে বিভিন্ন সংশয়-বিভ্রান্তের জন্য স্পঞ্জ-এর মতো করে ফেলো না। তাহলে তা কিন্তু আগত বিভিন্ন সংশয়-বিভ্রান্তকে শোষণ করে নিবে’ (ইবনুল ক্বাইয়্যিম, মিফতাহু দারিস সা‘আদাহ, ১/১৪০)।

    উপসংহার:
    মহাআল্লাহ আমাদের সকলকে খাঁটি ঈমান ও আমলের উপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!

    আপনার দ্বীনী ভাই

    আপনার মূল্যায়ন

    Rate this!
    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url