সূচিপত্র

    একটুখানি সাহিত্যের পরশ

    লগইন করুন

    ভুল ভাববেন না,একটু আপনার পরিচয় জানতে চাচ্ছি।

    একাউন্ট নেই? রেজিস্টার করুন

        

    একটু খানি সাহিত্যের পরশ 

    সবেমাত্র শীত ঋতু বিদায় নিয়েছে । প্রকৃতির মাঝে ঋতুরাজ বসন্তের আমেজ । ঋতু বসন্তের নাম শুনলেই কবি মানসে পঙক্তিমালার জোয়ার চলে আসে। উদাসীন বেখবর কবি মনেও চঞ্চলতার আভাস আঁচ করা যায় । বসন্তকালই  তো কবিতা রচনা করার ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে বটবৃক্ষের নিচে বসে  চরণমালা গাঁথার স্বাদ অন্যরকম। 

    কাগজের বুকে কালি রাখার সাথে সাথে লিপিবদ্ধ হতে থাকে অজানা কাব্যের পঙক্তিমালা। বসন্তকে ঘিরে কত কবি কত কিছুইনা আবিষ্কার করেছেন !প্রকাশ করেছেন নিজ বক্ষে ধারণকৃত সুপ্ত প্রতিভা!আবার অনেকে কুড়িয়ে নিয়েছেন  মানুষের ভালোবাসা ! আব্দুল্লাহ বসন্তের কোনো এক ভরদুপুরে একা একা হাঁটছে । 

    প্রকৃতির ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশ । দীর্ঘক্ষণ ধরে হাঁটছে । তার খানিকটা ক্লান্ত লাগছে । ক্লান্তি নিবারণের লক্ষ্যে  অতিকায় এক হিজল বৃক্ষের নিচে ধপাস করে বসে পড়ে । দীর্ঘ একটি নিঃশ্বাস ফেলে চারপাশের প্রকৃতির প্রতি মনোনিবেশ করলো।বৃক্ষগুলোর মাঝে পরিস্ফূট হচ্ছে সজীবতার ছোঁয়া ।কদিন আগেও শীতের তীব্রতায় পাতাগুলো ঝরে পড়েছিল। মুখ থুবড়ে নিচে পড়েছিল । আপন সজীবতা হারিয়ে ফেলেছিল । শীতের বিদায়ে বসন্তের পরশ পেয়ে ফিরে এসেছে তাদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার । অন্তঃসারশূন্য কান্ডগুলো পেয়েছে অতীত রূপ। প্রতিটি শাখা আজ পুলকিত, উল্লসিত। যেন মন ভরে হাসছে ।

    পরস্পর আদান প্রদান করছে উৎসবের আমেজ। শীতের প্রবল আক্রমণ বিদায় নেয়ার পর পত্র-পল্লব গুলো আবার উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে ।বৃক্ষের শাখায় শাখায় গজাচ্ছে সবুজ কচি পত্র পল্লব। বাতাসের হিল্লোলে পত্রগুলো লকলক করছে ।পুরো প্রকৃতি আজ সবুজের ছায়ায় ঘেরা ।

    পাশে একটি কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ থেকে ভেসে আসছে দোয়েলের কলরব। বসন্ত ঋতুতে দেখা যায় পাখিদের আনাগোনা। শোনা যায় ওদের মধুর কন্ঠের গান ।কোকিলের কুহু কুহু রব নিয়ে তো কত গায়ক যে গান রচনা করেছেন, তার ইয়ত্তা নেই ।অনেকে আবার নিজের প্রিয় সঙ্গিনীর স্বরকে সাদৃশ্য দেন কোকিলের কণ্ঠের সাথে।


     কৃষ্ণচূড়া গাছের ফুলগুলো ধারণ করেছে পাকা সুপরির রং। পরিধান করেছে গোধূলি লগ্নের লালচে শাড়ি।কবি শামসুর রহমানের তো কৃষ্ণচূড়া গাছের পুষ্প দেখলে ১৯৬৯এর  ইতিহাসের কথা মনে পড়ে যেতো। তিনি তো এই পুষ্পের রঙকে শহীদের শোণিতের সাথে তুলনা করেছেন। আব্দুল্লাহ বাতাসের দোলে দোল খাচ্ছে।

     

     সে বহুদিন পর এমন মনোরম প্রকৃতি অবলোকন করলো ।আদতে পল্লীগ্রামের প্রকৃতি এমনই হয়ে থাকে। পাতার মর্মর শব্দ, হরেকরকম পুষ্পের ভিন্ন ভিন্ন মৌ মৌ সৌরভ, মাঠে-ঘাটে কোলাহলমুক্ত আবেশ।নেই দূষিত বায়ু। পল্লীর প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে উপভোগের সামান। আব্দুল্লাহ কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছে  ।

     

    নিস্তেজ হয়ে যাওয়া দেহে ফিরে এসেছে উদ্যমতা রেশ। এবার সে পা বাড়ালো বাড়ির পথে ।প্রকৃতি তখন দুপুরের শেষ প্রহর গুনছে । আব্দুল্লাহ বিকেলের প্রাতে পা টিপে টিপে ঘরে প্রবেশ করছে । পথিমধ্যে রাস্তার পাশে এক মসজিদ থেকে সালাত পড়ে বাড়িতে এসেছে । তার রুমে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সুইচ অন করে। মাইমুনা হুট করে তার রুমে প্রবেশ করে। মনে হচ্ছে কিছু তার প্রয়োজন ।


    ঢোকার ভাবভঙ্গি থেকে তাই আঁচ করা যাচ্ছে ।


    -"কোথায় ছিলে এতোক্ষণ ভাইয়া?"

    - মাইমুনার আচানক প্রশ্ন ।আব্দুল্লাহ কিছু বলার আগেই সে আবার বলে উঠলো, তোমার আসার অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে আমি অস্থির। আমার সময় যেন যাচ্ছিল না। 

     "কেন, কী হয়েছে ?"

    আমার মনে  কিছু প্রশ্ন উদয় হয়েছে ।অবশ্য নিজ থেকে না, তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য শিলা আমাকে প্রশ্নগুলো করেছে  ।এই প্রশ্নগুলো হজম করতে পারছি না ।জানার আগ্রহ প্রবল হয়ে উঠছে  ।তাই কলেজ থেকে এসেই তোমাকে খুঁজছি। আব্দুল্লাহ বললো, "ও আচ্ছা এই ব্যাপার ,তা প্রশ্নের উত্তর কি এখনই দিতে হবে, না পরে দিলেও চলবে?" "কী যে বলো ভাইয়া ,আমি তো এই প্রশ্নগুলোর ভার সইতে পারছি না ।উত্তর দিয়ে আমার উপর থেকে এই ভাড়ি বোঝা নামাও ।"  "ঠিক আছে বলো তোমার প্রশ্নের ঝুড়ি।"  "ভাইয়া বিরক্ত হবে না কিন্তু;  অনেকগুলো প্রশ্ন ।" "তুমি বলো না! তোমার উপর কি বিরক্ত হওয়া যায় ?"

    নানান রঙের নানান মানুষ

    কোনো একটা কাজে ঢাকায় যাচ্ছি। গাউছিয়া আসার পথে আমাদের বাসটা থামে এক নর্দমার অদূরে। কী বিশ্রী গন্ধ! মনের অজান্তেই হাত চলে যায় পকেটের সন্নিকটে। রুমাল দিয়ে নাক মুখ চেপে ধরি। ক্ষুধার্ত পক্ষীকুল অবিরত আবর্জনা থেকে আহার সংগ্ৰহ করছে । তাদের মাঝে প্রতিযোগিতার একটা প্রবণতা দেখা গেল। কার আগে কে উদর পূর্তি করবে! সহসাই আমার নজর পড়ে কিছু লোকের প্রতি! যে স্থানে আমরা নাকে মুখে রুমাল চেপে ধরে টিকতে পারছি না আর তারা কিনা সেখানে দিব্যি আপন মনে কাজ করে যাচ্ছে । মানুষের জীবনটা আসলেই কত বৈচিত্র্যময়। তখন বুঝতে পারলাম কেন আল্লাহ তাআলা ধনী -গরীবের তফাত করেছেন। সবাইকে যদি ধনী বানাতেন তাহলে কেউ কি এই নর্দমার পাশে কাজ করতো? সবাই তো চাইতো এসি রুমে বসে পায়ের উপর পা তুলে নবাবীর চাল চালাতো। আল্লাহর পরিকল্পনার কারিশমা বুঝা বড় দায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের বুঝ দান করুন আমীন।


    Next Post Previous Post
    2 Comments
    • Siam
      Siam ৬ আগস্ট, ২০২৩ এ ২:১৮ AM

      Masha allah

    • নামহীন
      নামহীন ৩১ মার্চ, ২০২৬ এ ৭:১৩ PM

      Alhamdulillah valo MashaAllah

    Add Comment
    comment url