জ্ঞান
ইলম (জ্ঞান) কী?
জ্ঞান, এটা আবার কী? আসুন আগে জেনে নেই প্রকৃত জ্ঞান আসলে কী! জ্ঞান হচ্ছে ভালো-মন্দ পার্থক্য করার নাম। জ্ঞান হচ্ছে অজানা কিছু জানার নাম।
একজন অপরিচিত ব্যক্তি যে নাকি আপনার সম্পর্কে কোনো কিছু জানে না, সে অনায়াসেই আপনার সাথে দুরাচরণ, অভদ্রমূলক আচরণ করতে পারে। কিন্তু যে লোকটি আপনাকে চেনে, আপনার সম্পর্কে জানে, সে কিন্তু আপনার সাথে কখনোই দুরাচরণ করবে না। বরং আপনার সাথে ভালো আচরণ করবে, আপনাকে সম্মান করবে, সুন্দর করে কথা বলবে। দুদিন আগে যে আপনার সাথে দুরাচরণ করেছে এর কারণ কি জানেন? এ কারণ হচ্ছে ওই লোক আপনাকে চিনত না, ওই লোকের আপনার সম্পর্কে জ্ঞান ছিল না। তাই এমন আচরণ করেছে।
আপনি কি কখনো মলমূত্র খান? খান না। কারণ কোনটা ভালো খাবার ও কোনটা মন্দ খাবার কোনটা মলমূত্র এগুলো সম্পর্কে আপনার জ্ঞান রয়েছে। তাই আপনি এগুলো খান না, এড়িয়ে চলেন।
আপনি আপনার মা, বোন, ফুফু, খালা তাদের দিকে কি কুদৃষ্টিতে তাকান? তাকান না। কারণ আপনি তাদেরকে চিনেন, তাদের সম্পর্কে আপনার জ্ঞান রয়েছে। আপনি জানেন তারা আপনার জন্য বৈধ নয়। পর নারীর দিকে কিন্তু আপনি ঠিকই কুদৃষ্টিতে তাকান! কেন তাকান? কারণ আপনি জানেন তাদের কে বিয়ে করা আপনার জন্য বৈধ আছে।
একটা ছেলে মাদরাসাতে এসেছে মাদরাসার এক শিক্ষক কে বলছে, ভাই, ২০১ নাম্বার রুমটা কোন দিকে? ওই শিক্ষক মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,ওই দিকে। পরের দিন ওই ছাত্র ক্লাসে গিয়ে দেখে গতকালের ওই লোকটি তার ক্লাসের প্রধান শিক্ষক। এই ছাত্র গতকালের আচরণের কারণে লজ্জিত! ক্লাস শেষ হওয়ার পর ওই শিক্ষক কে গিয়ে বলছে, উস্তাদজী, আমি আপনাকে গতকাল না চিনে বলে ফেলেছিলাম , ভাই ২০১ নাম্বার রুমটি কোন দিকে। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
আপনি বলুন তো, এই ছাত্র এখন ক্ষমা চাচ্ছে কেন? কারণ এখন সে জানতে পেরেছে ওই শিক্ষক তার ক্লাসের প্রধান। এর আগে সে জানতো না। এজন্যই সে বলেছে, ভাই ২০১ নাম্বার রুমটি কোন দিকে। আমি মনে হয় আপনাকে জ্ঞান কাকে বলে এটা বুঝাতে পেরেছে। জ্ঞান হচ্ছে ভালো-মন্দ পার্থক্য করার নাম। জ্ঞান হচ্ছে কোনো অজানা কিছু জানার নাম।
কোন মানুষের মধ্যে যদি জ্ঞান না থাকে তাহলে সে আর মানুষ থাকে না। বরং অমানুষ হয়ে যায়। এমনকি তার আচরণ হিংস্র জন্তু-জানোয়ার থেকেও নিকৃষ্ট হয়। একটা উদাহরণ দেই।
রাস্তার একটা টোকাই ছেলেকে কোনো এক দলের ক্ষমতাশীল ব্যক্তি বললো, আমি তোমাকে দশ লক্ষ টাকা দিব। এর বিনিময়ে তুমি অমুক ব্যক্তি কে নির্ভয়ভাবে হত্যা করবে। একথা শুনে তো ওই টোকাই যারপরনাই আনন্দিত! সে তার বাড়িতে গিয়েই খাটের নিচ থেকে ধারালো একটা ছুরি নিয়ে ওই ব্যক্তিকে টুকরা টুকরা করে হত্যা করে। এরপর সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে এসে দশ লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায়।
আমাকে বলুন, এই টোকাই কিভাবে ওই অপরিচিত ব্যক্তি কে নির্দয়ভাবে হত্যা করল? এর কারণ হচ্ছে তার মাঝে জ্ঞান নেই। এজন্যই সে নির্ভয়ভাবে ওই লোককে হত্যা করেছে। এদিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ তা'আলা কিছু মানুষকে পশুর থেকেও নিকৃষ্ট বলেছেন,
﴿أُولَٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ﴾
“তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট। তারাই হলো গাফেল।” (সূরা আরাফ, ৭/১৭৯)।
কারণ পশুর জ্ঞান নেই, বিবেক নেই, বুদ্ধি নেই। কিন্তু মানুষের রয়েছে। মানুষের জ্ঞান না থাকতে পারে। কিন্তু মানুষের বিবেক, বুদ্ধি রয়েছে। এই বিবেক বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও সে হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের মতো আচরণ করেছে। এজন্যই আল্লাহ তাআলা তাকে হিংস্র জন্তু-জানোয়ার থেকে নিকৃষ্ট বলেছেন।
আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন নেতারা চায় দেশের ছেলেরা মূর্খ থাক, অশিক্ষিত থাক। মূর্খ অশিক্ষিত থাকলেই তো তাদেরকে দিয়ে অপকর্ম করানো যাবে, তাদেরকে খিচুড়ি ও বিরিয়ানি খাইয়ে মিছিলে নেয়া যাবে। মানুষ হত্যা করার মত জঘন্য কাজ করানো যাবে। তারা যদি শিক্ষিত হয়ে যায় তাহলে তো তাদেরকে দিয়ে গোলামী করানো যাবে না, তাদের দিয়ে মিছিল করানো যাবে না, তাদের দিয়ে পদলেহন করানো যাবে না, তাদের দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যাবে না, মানুষের উপর জুলুম করা যাবে না, মানুষের উপর অবিচার করা যাবে না, মানুষ কে হত্যা করানো যাবে না।
আপনি দেখতে পাবেন ক্ষমতাসীন নেতার ছেলেরা দেশের বাহির থেকে হরেক রকম ডিগ্রী অর্জন করে এসে নেতাগিরি করে। তারা লেখাপড়া বাদ দিয়ে, ডিগ্রী অর্জন বাদ দিয়ে মিটিং মিছিলের পিছনে ঘুরে না। বরং তারা যোগ্যতার পিছনে, ডিগ্রীর পিছনে ঘুরে।
কেউ লেখাপড়া করে আমেরিকায় আবার কেউ লেখাপড়া করে ইংল্যান্ডে, আবার কেউ লেখাপড়া করে অস্ট্রেলিয়ায়, আবার কেউ লেখাপড়া করে কানাডায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ে তারা যোগ্যতা এবং ডিগ্রী অর্জন করে। নেতারা তাদের ছেলেমেয়েদের কোনদিন মিটিং মিছিলে নিয়ে যায় না। তাদেরকে দিয়ে কাউকে হত্যা করায় না। কারো উপর জুলুম অবিচার করায় না। বরং তাদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যারপরনাই কুশেশ করে। লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে এসে তারা নেতাগিরি করে। আর আমার আপনার ভাই, আমার আপনার ছেলে মিটিং মিছিল করে লেখাপড়ার পিছনে সময় ব্যয় করে না। যার ফলে তারা মূর্খ থেকে যায়। পরবর্তীতে মূর্খ থাকার ফলে এরাই দেশের সন্ত্রাসী ও মাফিয়া হয়ে ওঠে। পরে দেখা যায় নেতাদের স্বার্থে কোনো আঘাত লাগলে পুলিশ দিয়ে ক্রসফায়ারে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। এটাই হয় আমার আপনার ভাইয়ের অথবা আমার আপনার ছেলের শেষ পরিণতি।
আমি আপনাকে বুঝাতে চাচ্ছি একটা মানুষের মাঝে জ্ঞান না থাকলে সে মানুষ থাকে না। বরং সে পশুর থেকে নিকৃষ্ট হয়ে যায়।
এবার আসুন পরবর্তী কথায়, আপনার মাঝে জ্ঞান আছে। কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞান নেই তাহলে এই ক্ষেত্রে আপনি প্রকৃতপক্ষে একজন ভালো মানুষ হতে পারবেন না। আপনি আল্লাহ ভোলা, রাসূল ভোলা মানুষ হবেন। পরকালে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আপনাকে আমি কয়েকটা উদাহরণ দিচ্ছি, আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষিত কিছু নাস্তিক রয়েছে। যারা হরহামেশেই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে গালি দিয়ে বেড়ায়। যারা প্রায় প্রায়ই ইসলামের বিভিন্ন বিধান নিয়ে সমালোচনা করে, কটু মন্তব্য করে। আমার কথা হচ্ছে এরা কি শিক্ষিত না? অবশ্যই এরা শিক্ষিত। এরা যদি শিক্ষিত না হতো তাহলে তারা সচিবালয়ে চাকরি পায় কিভাবে? তারা যদি শিক্ষিত না হতো তাহলে তারা বড় বড় চ্যানেলে টকশো করে কিভাবে? বড় বড় সরকারি পদে কিভাবে তারা চাকরি করে? বড় বড় পেপার পত্রিকায় কিভাবে তারা সম্পাদক হয়?
তাহলে বুঝা যাচ্ছে, অবশ্যই তারা শিক্ষিত। কেন এই লোকগুলো শিক্ষিত হওয়ার পরেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে গালি দেয়? কেন এই লোকগুলো শিক্ষিত হওয়ার পরেও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে? কেন এই লোকগুলো শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও আলেম-ওলামাদের তুচ্ছ জ্ঞান করে? এর কারণ হচ্ছে, তাদের মধ্যে জাগতিক জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু তাদের মাঝে পারলৌকিক আল্লাহ সম্পর্কে তাঁর রাসূল সম্পর্কে, ইসলাম সম্পর্কে এবং ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞান নেই।
কানাডা থেকে একটা ছেলে ডিগ্রী অর্জন করে দেশে ফিরে এসেছে। কিছুদিন পর সে ধনীর এক দুলালিকে বিয়ে করেছে। তাদের বাড়িতে ছোট একটি মেয়ে কাজ করে। কোনো একদিন হঠাৎ করে তার হাত থেকে একটা প্লেট পড়ে ভেঙ্গে যায়। এতে তারা দুজন স্বামী স্ত্রী মিলে মেয়েটাকে বেদম উপহার করে। পিঠে গরম খুন্তি লাগিয়ে দেয়। আরো নানাভাবে তাকে নির্যাতন করে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তারা দুজনই শিক্ষিত মানুষ তাহলে তারা এই ছোট্ট মেয়েটার সাথে এমন আচরণ করল কেন? তারা কি শিক্ষিত নয়? অবশ্যই তারা শিক্ষিত। এমন আচরণ করল কেন? কারণ তাদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান নেই।
একটা ছেলে সরকারি চাকরি করে। তার মা বাবা অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছে। লেখাপড়া শেষ করে ভালো চাকরি পেয়ে সে এক মডার্ন মেয়েকে বিয়ে করেছে। এই মেয়ের কথায় সে তার মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে একা একা ফেলে এসেছে। মা বাবা এখন প্রায়ই হাউমাউ করে কান্না করে। এই বন্দী জীবন তাদের কাছে ভালো লাগে না। মাঝেমধ্যেই ছেলেকে ফোন দেয় তাদের এখান থেকে নিয়ে যেতে। কিন্তু ছেলের মন এতে বিগলিত হয় না। উল্টা সে বিরক্ত বোধ করে। কেন এরকম করে সে? তার মধ্যে কি শিক্ষা নেই? অবশ্যই তার মধ্যে শিক্ষা রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান নেই। ধর্মীয় জ্ঞান না থাকলে মানুষ নাস্তিক হয়ে যায় অথবা পরকাল বিমুখ হয়।
এবার আসুন পরবর্তী কথায়, একটা মানুষের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু বিশুদ্ধ ধর্মীয় জ্ঞান তার মাঝে নেই। এমনটা যদি হয়ে থাকে তাহলে এই লোকটি তার মনের অজান্তেই বিপথগামী হয়ে যাবে। সে জাহান্নামী হয়ে যাবে। অথচ সে মনে করতেছে যা কিছু করতেছে পরকালে মুক্তি পাওয়ার জন্যই করতেছে। আমরা কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাই।
আমাদের দেশের মধ্যে দেখবেন মিলাদ মাহফিল হয়, জোসনে জুলুস হয়, ঈদে মিলাদুন্নবী হয়, শবে মিরাজ হয়, শবে বরাত হয়, চল্লিশা হয়, কুলখানি হয়, আরো কত কিছু হয়। এগুলো হয় কেন? তাদের মাঝে তো ধর্মীয় জ্ঞান রয়েছে! তারা তো বিভিন্ন ধরনের দলীল প্রমাণ দিয়েই এগুলো করে! তাদের কাছে দলীল রয়েছে। তাদের কাছে ধর্মীয় জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু বিশুদ্ধ দলীল নেই। এজন্যই তারা ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করছে। নামাজের পর ইমাম সাহেব হাত তুলে দুআ শুরু করেছেন। পেছনে থাকা সব মুসল্লিরাও তার সাথে দুআ করছে। দুআ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সবাই অন্যান্য যিকির আযকার বাদ দিয়ে সুন্নত পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেছে। এই যে নামাজের পরে সম্মিলিত মোনাজাত এটা যারা করছে তারা তো দলীল দিয়েই করছে! কিন্তু বিশুদ্ধ দলীল দিয়ে করছে না।
এখানে আপনাকে একটা কথা বলি,
আবার লবণাক্ত পানিতে যে মাছ বসবাস করে ওই মাছ মিষ্টি পানিতে বসবাস করতে পারে না।
"আলো যেখানে আছে সেখানে অন্ধকার থাকতে পারবে না। আর যেখানেই অন্ধকার রয়েছে সেখানে কখনোই আলো থাকতে পারবে না। লবণাক্ত পানিতে কখনো ইলিশ মাছ বাঁচতে পারবে না। আবার লবণাক্ত পানিতে যে মাছ বসবাস করে ওই মাছ মিষ্টি পানিতে বসবাস করতে পারে না।"
যেখানে সুন্নাহ রয়েছে সেখানে বিদআত থাকতে পারবে না। আর যেখানে সুন্নাহ রয়েছে সেখানে বিদআত থাকতে পারবে না। এটাই স্বাভাবিক। নামাজের পরে বিভিন্ন ধরনের যিকির আযকার রয়েছে। নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পড়তে হয়, সূরা নাস, ফালাক, সূরা ইখলাস পড়তে হয়। আরো কত রকমের যে যিকির রয়েছে যা পড়তে হয়। আপনি দেখতে পাবেন যে মসজিদের মধ্যে সম্মিলিত দুআ হয় ওই মসজিদের মাঝে এই আমলগুলো করা হয় না! কেন করা হয় না? কারণ এখানে বিদআত রয়েছে, এখানে সম্মিলিত মোনাজাত রয়েছে। যার কারণে এখান থেকে সুন্নাহ উঠে গেছে। আমি আপনাকে বুঝাতে চাচ্ছি, ধর্মীয় জ্ঞান থাকলেই হবে না। বরং বিশুদ্ধ ধর্মীয় জ্ঞান থাকতে হবে। নচেৎ আপনি বিদআত করে পরকালে জাহান্নামি হবেন। পরকালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবেন না।
এখানে তিক্ত সত্য একটা কথা বলছি, আমাদের দেশে বিদআতগুলো চালু রেখেছে কিছু ধর্মীয় ব্যবসায়ী। ধর্মের নামে যারা ব্যবসা করে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, অন্যায়ভাবে মানুষের টাকা পয়সা ভোগ করা, আত্মসাৎ করা। তারা যদি এগুলো বাদ দেয় তাহলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্যই তারা সমাজের মধ্যে এগুলা জিয়ে রেখেছে। এদিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ তা'আলা বলেন,
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ كَثِیۡرًا مِّنَ الۡاَحۡبَارِ وَ الرُّهۡبَانِ لَیَاۡكُلُوۡنَ اَمۡوَالَ النَّاسِ بِالۡبَاطِلِ وَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ؕ
হে বিশ্বাসীগণ! অনেক আলেম ও দরবেশ অন্যায়ভাবে মানুষের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে এবং তারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় ।(সূরা তাওবা,৯/৩৪)।
শবে বরাত, শবে মিরাজ, কুলখানি, চল্লিশা খালি, মিলাদ মাহফিল এগুলা যদি রাসুলের যুগে অথবা সাহাবীদের যুগে পালন করা হতো তাহলে অবশ্যই বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হতো। রমজান মাসে সিয়াম পালন করতে হবে, রমজান মাসের রাতে তারাবির সালাত পড়তে হবে, এই বিষয়ে কি কোনো বিদ্বান মতভেদ করেছেন? করেননি। এই বিষয়গুলো যদি গুরুত্বপূর্ণ হতো তাহলে রমজান মাসের মতো, তারাবির সালাতের মতো বিষয়গুলো স্পষ্ট ভাবে বর্ণিত হতো।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পালন করতেন।তার মৃত্যুর পর সাহাবীরাও এগুলা পালন করতেন। কিন্তু সাহাবীরা কখনো ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করেননি। কখনো মিলাদ করেননি। কখনো শবে বরাত, শবে মিরাজ পালন করেননি।
সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম এগুলোই স্পষ্ট বিদআত। কিছু মানুষ তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য এবং তাদের অসৎ উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করার জন্য এগুলো আমাদের সমাজের মধ্যে জিয়ে রেখেছে।
পরিশেষে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান অর্জন করার তৌফিক দান করেন আমিন।
Saidur Rahman