আল-জাযেরী : আধুনিক যন্ত্র প্রকৌশলের পথ প্রদর্শক
✅প্রাক-কথন : আধুনিক বিশ্বসভ্যতা আজ যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে তার পিছনে রয়েছে মুসলিম বিজ্ঞানীদের নিরলস শ্রম ও সাধনা। একথা সত্য যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের আবিষ্কার এই পৃথিবীকে আলোকিত ও প্রভাবিত করেছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করেছে। পশ্চিমাবিশ্ব আজ বিশ্ববাসীকে যে সময়টাকে অন্ধকার যুগ বলে পরিচিত করেছে তা আসলে ছিল সোনালী যুগ। সপ্তম থেকে নবম শতাব্দী ইসলামের ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' নামে পরিচিত। এসময় খ্রীস্টজগৎ ছিল অন্ধকারে আচ্ছন্ন। পশ্চিম ইউরোপের স্পেন-পর্তুগাল-ফ্রান্স থেকে পূর্বে চীন পর্যন্ত এবং উত্তর আফ্রিকার দেশসমূহ মিলে এক বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে গড়ে উঠা সভ্যতার নাম ইসলামী সভ্যতা। যার সূচনা হয়েছিল হেরার কন্দরে ‘ইক্বরা' দ্বারা। যার আলোকচ্ছটা শুধু মুসলিম জাতির উপরেই পড়েনি, পড়েছে জগতজুড়ে। নিজ ধর্মের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করার পাশাপাশি গ্রীক, রোমান, পারস্য, সিন্ধু ও চৈনিক সভ্যতার দর্শন, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থগুলো আরবী ভাষায় অনুবাদ করে তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছিল। ইউরোপের রেনেসাঁ এবং গ্রীক ও রোমান সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে সেতুবন্ধন সৃষ্টিতে ইসলামী সভ্যতার অবদান অনস্বীকার্য। আজকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রেখেছেন মুসলিম মণীষী, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীগণ। তাদের স্বপ্ন ও আবিষ্কারের নেশা বিশ্বকে এই অবস্থায় এনে দিয়েছে।আজ আমরা এমনি একজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি যিনি ইতিহাসে ভাস্বর হয়ে আছেন। যার এই অনন্য আবিষ্কার প্রমাণ বহন করছে পৃথিবীবাসী। কথিত পশ্চিমাবিশ্বের পণ্ডিতগণ যেভাবে ইসলামের স্বর্ণযুগকে মধ্যযুগ (অন্ধকার যুগ) বলে হেয় করার চেষ্টা করেছে এবং করছে তা মূলত হিংসা ও ষড়যন্ত্র। সে সময়কার বিজ্ঞানীগণ জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিতশাস্ত্র, রসায়ন ও প্রকৌশল বিজ্ঞানে ব্যাপক ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। আল- জাযেরী ছিলেন একজন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিজ্ঞানী। তাঁর পুরো নাম বাদিউযযামান আবুল ইযয ইবনু ইসমাঈল ইবনু রজ্জাজ আল জাযেরী। তিনি বর্তমান ইরাকের জাযিরাত ইবনু উমার-এ জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর পিতা প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি শৈশবে পিতার কাছে লিখা-পড়া শেখেন। সেখানেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করতে থাকেন এবং বেড়ে উঠতে থাকনে। তার পিতার কাছে শিক্ষা অর্জন করে তিনি শ্রেষ্ঠ যোগ্যতার পরিচয় দেন। সে কারণে পিতার পরে তিনিই সেই পদে অধিষ্ঠিত হন। সুদীর্ঘ ৩০ বছর তিনি এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় তিনি উচ্চতর বিজ্ঞান ও যন্ত্রশিল্পে গবেষণাকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পান। এসময় গবেষণা করে তিনি নানা আবিষ্কার সফলভাবে সম্পাদন করতে তিনি সক্ষম হন। তার আবিষ্কারসমূহের মাঝে নিম্নে কিছু তুলে ধরা হলো।
✅১. রোবট আবিষ্কার : আমরা নানা দেশে মানুষের পরিবর্তে রোবটকে কাজ করতে দেখি। সেগুলো রেস্টুরেন্টে পরিচারক হিসেবে কাজ করে। এই রোবটের প্রথম ধারণা দেন আল- জায়েরী। তাকেই রোবটের জনক বলা হয়। তিনি রাজদরবারে একবার রাজাকে বললেন, “মহারাজ, কেমন হয় যদি আমরা মানুষের মতো যন্ত্র বানিয়ে ফেলি? ওরাই দিনরাত নিজে নিজে কাজ করবে, কখনো ক্লান্ত হবে না'। এতদশ্রবণে রাজদরবারের সভাসদগণ হো হো করে হেসে উঠেন। কিন্তু বাদশাহ স্বয়ং তাঁকে এ কাজে উৎসাহ প্রদান করেন। বাদশার উৎসাহ পেয়ে তিনি দ্বিগুণ উৎসাহে কল্পনাকে বাস্তবে রোবোটিক রূপ দিতে ডিজাইন শুরু করেন।
আল-জায়েরী আবিষ্কৃত রোবট
তার বইয়ে রোবট তৈরির বিভিন্ন নকশা পাওয়া যায়। তিনি রোবট পরিচারক তৈরী করেছিলেন। তার তৈরী রোবটটি সয়ংক্রিয়ভাবে জলপান পরিবেশন করতে পারত। আর এটিই ছিল প্রথম programmable humanoid robot। সেখান থেকে শুরু হয় রোবট আবিষ্কারের যাত্রা, যা আজও অব্যাহত আছে।
✅২. মিউজিক্যাল অটোম্যান : মিউজিক্যাল অটোম্যান অর্থাৎ একটি রোবট ব্যান্ডদল তৈরি করেন। জি, হ্যা। শুনতে অবাক লাগলেও একথা সত্য। রাজদরবারে বিনোদনের জন্য রোবটদল। দলে সদস্য ছিল মাত্র চারজন। রোবট চারটি একটি ছোট্ট নৌকায় বসানো থাকত। নৌকাটি হ্রদে ছেড়ে দিলে ঢেউয়ের সাথে সাথে সুর-তরঙ্গ সৃষ্টি করত। এটি রোবট আবিষ্কারের আরও একটি ধাপ ছিল।
✅৩. পানির পাম্প : আর্কিমিডিস পৃথিবীর প্রাচীনতম আবিষ্কারকদের অন্যতম। তিনি প্রথম পানি উত্তোলনের যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যা চেইন পাম্প নামে পরিচিত। এটি এমন একটা যন্ত্র যাতে একটি বড় পাইপের মধ্যে চেইনের সাথে
আল-জায়েরী আবিষ্কৃত পানির পাম্প
যুক্ত একাধিক ডেস্ক বসানো। চেইন ঘুরালে ডেস্কে পানি আটকা পড়ে এবং ক্রমে উপরে উঠতে আরম্ভ করে। কিন্তু বহু শতাব্দী পর আল- জায়েরী পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের পানির পাম্প তৈরী করেন। এগুলো সাকিয়া পাম্প নামে পরিচিত। আল- জাযেরীই প্রথম চেইন পাম্পে ট্যাঙ্কশ্যাফট ব্যবহার করেন। আধুনিক যুগের সব যন্ত্রপাতিতে ব্যবহার করা ইন্টারমিসেস সিস্টেমের ধারণাও আসে আল- জায়েরীর সাকিয়া পাম্প থেকে। তিনি প্রথম হাইড্রোপাওয়ার দ্বারা সাকিয়া পাম্প পরিচালনা করেন। এ পদ্ধতিতে পানি উত্তোলন করতে কায়িক শ্রমের প্রয়োজন হয় না। পুরো মধ্যযুগ মানুষ জাযেরীর আবিষ্কৃত পদ্ধতি ব্যবহার করে পানি উত্তোলন করেছে।
✅4. স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র : তৎকালীন আরবের অনেকে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করেন। বহুদিনের বহুজনের পরিমামের ফল এসে ধরা দেয় আল-জায়েরীর হাতে। তিনি প্রথম ক্যামশেফট তৈরী করেন, যা একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। চ্যামশ্যাফটে এক প্রকার ঘুর্ণায়মান যন্ত্র ব্যবহার হয় যাকে ক্যামশ্যাফট বলে। তিনি এ যন্ত্রটি জলঘড়ি, অটোমেটা এবং পানি উত্তোলনে ব্যবহার করেন। যন্ত্রটি একসাথে দুই ধরনের গতি উৎপন্ন করতে পারত। তা হলো (ক) ঘুর্ণায়মান গতি ও (খ) সম্পূরক গতি। এর হাত ধরেই শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়। বাষ্পইঞ্জিন থেকে আজকের দিনের দহন ইঞ্জিন এবং স্বয়ংক্রিয় সকল যন্ত্রে এই যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। পেন্ডুলামের ঘড়িতে পেন্ডুলামের দোলন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এক ধরনের যান্ত্রিক কৌশল ব্যবহার করা হয় যার নাম এস্কেপম্যান্ট অ্যাংকর। আল জায়েরী এই এস্কেপম্যান্ট কৌশল ব্যবহার করে চাকার গতিরোধ নিয়ন্ত্রণে যান্ত্রিক কৌশল আবিষ্কার করেন। বর্তমান দুনিয়ার গাড়ির ব্রেকের ধারণার একটি প্রাথমিক রূপ ছিল আল- জাযেরীর এই আবিষ্কার। এই যন্ত্র আবিষ্কার করে তিনি তখন সারা পৃথিবী সাড়া ফেলে দেন এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। ১৪শতকে ইউরোপে এই যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।

স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র
✅৫. আধুনিক হাত ধোয়ার যন্ত্র : তাঁর আরেকটি বিস্ময়কর আবিষ্কার হলো 'পিকক ফাউন্টেইন' (Peacock Fountain)। এটা ময়ূর সদৃশ, যা দেওয়ালে স্থাপন করা হত। ময়ূরের লেজ ধরে টান দিলেই ঠোঁট দিয়ে পানি নির্গত হত। হাত ধুতে ধুতে লেজ ধরে আরেক টান দিলে ময়ূরের নিচ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দরজা খুলে গিয়ে সাবান এসে উপস্থিত হত। কাজ শেষে আরেক টান দিলে নিচের স্বয়ংক্রিয় ভিন্ন দরজা খুলে টাওয়েল বেরিয়ে আসত। এ থেকেই তিনি আরও বিস্ময়কর যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
Peacock fountain
✅ ৬. ঘড়ি আবিষ্কার : আল-জাযেরীর ছিল নবসৃষ্টির প্রতি অদম্য আগ্রহ। তিনি বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি আবিষ্কার করেন। তিনি জলঘড়ি, মোমঘড়ি ও ক্যাসেলঘড়ি আবিষ্কার করেন। তিনি প্রচলিত সৌর মডেলের চলন্ত ঘড়িও তৈরী করেন। তিনি বছর জুড়ে দিনরাতের দৈর্ঘ্য নির্ণয়ে একটি এলিফ্যান্ট ক্লকও আবিষ্কার করেন। তার সবচেয়ে চমৎকার আবিষ্কার হলো ক্যাসেলঘড়ি যার উচ্চতা ছিল ৩.৪ মিটার। ঘড়িটির ডিজাইনে রাশিচক্রের চিত্র অংকিত আছে যা দ্বারা চাঁদ-সূর্যের আবর্তন কক্ষপথ নির্দেশ করে। দিনরাতের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘড়ির সময়েরও পরিবর্তন করা যেত। এতে এলার্মের ব্যবস্থা ছিল। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘড়ির নিচে থাকা অটোমেটেড দরজা খুলে গিয়ে রিং বাজাত একদল কৃত্রিম বাদক। দুবাইতে আল-বার্তানি শপিংমলের প্রবেশ দ্বারে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে আজ-জায়েরীর ক্যাসেল ঘড়ি।
ক্যাসল ক্লক
✅ ৭. পানি শোষক যন্ত্র : ১২০৬ সালে, জাযেরী আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার এক অমূল্য যন্ত্র ‘পানি শোষক যন্ত্র' আবিষ্কার করেন। এতে প্রথম ডাবল একশন কৌশল ব্যবহার করা হয়। তিনি এই পাম্পেও ক্র্যামশ্যাফট ব্যবহার করেন। ক্র্যাংশ্যাফট ব্যবহারের সাথে সাথে তিনি শ্যাফটের দুই পাশে দুটি সিলিন্ডার বসিয়ে তার চিন্তার অগ্রগামিতার ছাপ রেখে যান। তিনি এতে ভাল্ব, পিস্টন, পাইপ ও ঘূর্ণায়মান গতিকে সম্পূরক গতিতে রূপান্তরের জন্য ক্র্যাংশ্যাফট ইত্যাদির ব্যবহার করেন। আধুনিক যন্ত্র কৌশলের অনেক দিক তার এই যন্ত্রে আমরা দেখতে পাই। পঞ্চদশ শতকে ইউরোপে তার এই পানি শোষক যন্ত্র বেশ সাড়া পায়। মজার ব্যাপার হলো, যখন ইউরোপিয়ানরা পানি শোষক যন্ত্র হাতে পায় তারা লক্ষ্য করে তিনশ বছর পূর্বের জাযেরীর তৈরীকৃত যন্ত্রটি অনেক উন্নত। পৃথিবীর প্রথম ফ্লাশ টয়লেটের ধারণাও আসে তার থেকে। আধুনিক বেশিন ও ফ্লাশ টয়লেটও আল-জায়েরীর আবিষ্কার। তিনি কেবল যন্ত্র প্রকৌশলী ছিলেন না, একজন দক্ষ চিত্রশিল্পিও ছিলেন। তার প্রতিটি আবিষ্কার ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। তিনি তার প্রতিটি আবিষ্কার অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তার বইয়ে সুন্দরভাবে আর্ট করেন।
✅ ৮. রোড সুইপ যন্ত্র : মহাবিজ্ঞানী আল- জাযেরীর ভবিষ্যতের যন্ত্রসভ্যতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার একটি বিশেষ গুণ ছিল। এই চিন্তা-ভাবনা থেকে তিনি রাস্তা পরিষ্কার করার যন্ত্র তৈরী করেন। যন্ত্রটি খুব ভালোভাবেই কাজ করত। এই নানা আবিষ্কারের ফলে তার সম্মানে বাদশাহ এক ভোজন সভার আয়োজন করেন। সভায় জায়েরী বলেন, 'আমি সেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, যেখানে মানুষ আর কোনো কাজ করবে না, যন্ত্রই আমাদের সব কাজই করে দেবে। যন্ত্রই মাঠে ফসল ফলাবে ও তা পরিবহন করবে। মানুষের জীবন হবে অনেক সহজ'।
✅ ১. তাঁর লিখিত গ্রন্থ : ১১৮০ সালে তিনি বিখ্যাত গ্রন্থ আল জামি' বয়ান আল-ইলম ওয়াল আমাল আন-নাফি (The Book of Knowledge of Ingenious Mechanical Devices) লিখে শেষ করেন। তাঁর আঁকা চিত্রগুলো তার এ গ্রন্থটিতে পরে যুক্ত করা হয়। এই গ্রন্থটির কারণে তিনি ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। এতে তিনি প্রায় ১০০টি যন্ত্রের কার্যপ্রণালি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনিই যে প্রথম এইসব যন্ত্র নিয়ে ভেবেছিলেন তা অনেক ইউরোপীয়ান অকপটে স্বীকার করছেন। যন্ত্রপ্রকৌশলের উপর লিখা পৃথিবীর প্রথম গ্রন্থ এটি ধরা হয়। সপ্তদশ শতাব্দী অবধি ইউরোপের বিশ্যবিদ্যালয়গুলোতে বইটি পড়ানো হত। জর্জ সার্টন এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন, “ওই সময়ে এমন একটি বই উনি কী করে লিখলেন তা আসলেই আশ্চর্যের ব্যাপার! তাঁর কিছু চিন্তা-ভাবনা বর্তমান প্রকৌশলীদের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে কিন্তু ওই সময়ে এইসব চিন্তা করাটা মোটেও সহজ ছিল না!” আল জায়েরীর সেই মহাগ্রন্থটির মূলকপি ইস্তামবুলের ‘ইসলামিক আর্ট মিউজিয়াম' এ সংরক্ষিত আছে। ১৯৭৪ সালে ডোনাল্ড আর হিল গ্রন্থটি ইংরেজি অনুবাদ বের করেন।
প্রচ্ছদ চিত্র
শেষকথা : ধর্মীয় উগ্রবাদীরা জায়েরীর এই বিস্ময়কর কথাটির অপব্যাখ্যা করে। তারা ক্রমে বাদশাহর কান ভারী করে তোলে। এক পর্যায়ে তাকে ধর্মচ্যূত অ্যাখ্যা দেওয়া হয়। ফলে সুলতানের দরবারে তিনি চাকরি হারান। ১২০৬ সালে তিনি ইতিহাসের বাঁকে নিঃসঙ্গ জীবনের অবসান ঘটিয়ে মহাকালের তরীতে যাত্রী হন। যতদিন যন্ত্রকৌশল থাকবে ততদিন জাযেরী তাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস। মুসলিম যুবকগণ তার পথ ধরে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপ্রকৌশল বিদ্যার্জন করে সাফল্য লাভ করবে। এ শাখায় মুসলিম তরুণদের দিতে হবে নেতৃত্ব। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি মুসলিমের বুকে প্রেরণার উৎস হিসাবে চির জাগরুক হয়ে থাকবেন।
সংগৃহীত
RAFSAN JANI
Mashaallah