সূচিপত্র

    দেয়ালের ওপাশ থেকে বলছি ২য় পর্ব




    গত সংখ্যার পর থেকে......

     কেউ তাকে ধরতে পারবে না । তার সমুদয় দুঃখ-কষ্ট লীন হয়ে যাবে । সে ভাবছে একটা চিরকুট লিখবে। যে ভাবা, সেই কাজ।

    " প্রিয় মা- বাবা, শুরুতে আমাকে ক্ষমা করবে। তোমাদের না বলে আমি চলে গেলাম না ফেরার দেশে । যে দেশে একবার কেউ যাত্রা করলে কখনো ফিরে আসে না। আর আমি তোমাদের মাঝে থেকেই বা কী করবো? আমি তো তোমাদের যাপিত জীবনের স্বপ্নীল স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছি। আমি তো তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারিনি। আমাকে ঘিরে তোমাদের কত আশা ভরসা ছিল! আমিও তা বাসবাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম ; কিন্তু একটা জায়গায় খানিকটা ভুল হয়ে গেছে । 


    আমি বহুকালক্ষেপন করেছি মরীচিকার পেছনে ঘুরে ঘুরে। বেলা ফুরাবার আগে আমি আমার গন্তব্যের পিছনে ছুটিনি । 

    আমি যদি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হতাম তাহলে কখনই এই সিদ্ধান্তে আসতাম না। কিন্তু সাদিয়ার বিরহের যন্ত্রনা আমি সহ্য করতে পারছি না। আমার পেছনে লেগেই আছে তার প্রতিশ্রুতির বাণ।

     হাজার দৌড়ঝাঁপ দিয়েও নিজেকে রক্ষা করতে পারছি না । কোনোভাবেই তার স্মৃতিগুলো আমি ভুলতে পারছি না। কত যে চেষ্টা করেছি! নিজেকে কত প্রবোধ সান্তনা দিয়েছি ; কিন্তু মন আমার কথাই শুনতে নারাজ। বড্ড অভিমান করেছে আমার উপর। আমি ভুল করেছি লেখাপড়ার মধ্যভাগে সাদিয়া কে ভালোবেসে। যার মাশুল আমাকে দিতে হলো এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেয়ে। পৃথিবীবাসীকে উদ্দেশ্য করে আমি বলছি, মেয়ে নামক মরীচিকার পেছনে ঘুরো না। যোগ্যতার পেছনে ঘুরো। যোগ্যতা অর্জন করলে সবাই তোমার পেছন ঘুরবে । এই পৃথিবী বড়ই স্বার্থপর, রগচটে। এখানকার সব মায়া-মমতা মিছে খেলা। কিছুটা দেয়াল ঘড়ির মতো। প্রয়োজন পড়লে সবাই তাকায় আর প্রয়োজন শেষে মুখ উঁচু করে কেউ তাকায় না।

      যত ভালোবাসা আছে সব স্বার্থকে ঘিরে। স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে সবাই ভুলে যায়। পরিশেষে মা তোমাকে বলছি , তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমার মুখ উজ্জ্বল করতে পারলাম না। 

     জানি, আমাকে নিয়ে তোমার অনেক স্বপ্ন ছিল। আমাকে নিয়ে তুমি অনেক গর্ববোধ করতে। আমি তোমার স্বপ্ন ভেঙ্গে খানখান করে দিয়েছি! আমার জন্য তুমি অনেক কষ্ট করেছ। অনেক কটু কথা শুনেছো!আমি আর লিখতে পারছি না! ব্যথায় আমার বুকটা কুঁকড়ে উঠছে! এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে আসছে! আমি একটু শান্তি চাচ্ছি। আমি আর সহ্য করতে পারছি না !

    ইতি, তোমার অবাধ্য ছেলে "আকাশ"।"


    খাটের নিচে একটা দড়ি ছিল। এটা সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আকাশ আত্মহত্যা করে । সলীল সমাধি হলো একটা প্রাণের। 

    দু'টো নাগাদ আকাশের মা আঁচ করে ঘরের দরজা এখনো বন্ধ। কেন আকাশ দরজা বন্ধ করে রেখেছে, কীই বা করছে? ঘরের দরজায় "আকাশ, আকাশ, এই আকাশ" বলে কয়েকবার কড়ানাড়া করে; কিন্তু না, ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসছে না।  

    আকাশের মার বুকটা ধক করে ওঠে । হাজার অন্যায় করুক, ছেলেতো! মারা সাধারণত এমনই হয়ে থাকে । আকাশের মার মনে জানান দিয়েছে। উতলা হয়ে উঠেছে তার মন । কিছু একটা হয়েছে! 

     আরো কয়েকবার জোরে জোরে 'আকাশ' বলে ডাক দিল। না, কোনো আওয়াজ আসছে না। লা জওয়াব। পাশের বাড়ি থেকে কিছু কিশোর ছেলেকে তার মা ডেকে আনে। কয়েকজন মিলে সজোরে দরজায় ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই দরজাটা ভেঙ্গে যায়।

     আকাশের লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলছে। তার মা এই দৃশ্যটি দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে । আসমানটা ভেঙ্গে পড়ে তার মাথায়। প্রকৃতি দীপ্তিময় হওয়া সত্তেও মুহূর্তেই নিকষ কালো অন্ধকার হয়ে যায় । একমাত্র ছেলে এভাবে না বলে অভিমান করে পরপারে চলে গেল । আকাশের মার অমন হাহাকারে আশপাশের পাড়া পড়শিরা হুড়মুড় করে আসতে লাগলো। সবাই তার মাকে সমবেদনা জ্ঞাপনে মগ্ন। কারো সান্তনাতেই তার মার অন্তর শীতল হচ্ছে না। আদতে তরুণ যুবক ছেলের মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণ করা বেশ কঠিন । সারাবাড়ি জুড়ে কান্নার প্লাবন বইছে। যে-ই আসে, সে-ই অশ্রু ধরে রাখতে পারে না তার মার নোনাজল দেখে। রাত দশটায় তার কাফন দাফন সম্পন্ন হয়। ইমাম সাহেব তার জানাযার সালাত পড়াননি। কারণ ইসলামী শরীয়তে নিয়ম হলো , কেউ যদি আত্মহত্যা করে মারা যায় তাহলে আলেমরা তার সালাত পড়বে না ; বরং সাধারণ লোকেরা পড়বে। যেন ভবিষ্যতে কোনো মানুষ এ ধরনের অপরাধ করার দুঃসাহসিকতা লালন না করে। মাদানী জীবনের প্রথমপর্বে কোনো সাহাবী যদি ঋণ রেখে মারা যেতেন , তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানাযার সালাত পড়তেন না। সাহাবীদের বলতেন তোমরা তার সালাত আদায় করো। অনুরূপভাবে কেউ আত্মহত্যা করলে তার সালাত পড়তেন না।  

    ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ قَتَلَ نَفْسَهُ بِمَشَاقِصَ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ ‏.‏


    "জাবির ইবনু সামুরাহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জনৈক ব্যাক্তির লাশ উপস্থিত করা হলো। সে চেপ্টা তীরের আঘাতে আত্মহত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাযার সলাত আদায় করেননি।" (মুসলিম, হা/২১৫২)

    আকাশের জানাযার সালাত পড়ায় তার প্রিয় বন্ধু হৃদয় । হ্নদয় ছেলেটা কলেজ পড়ুয়া হলেও ধর্মকর্ম পালন করে । ইসলামের প্রতি রয়েছে তার অগাধ টান। বিষণ্ণ মনে বাড়ি ফিরে আসে। তার বন্ধুর অমন অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। কোনভাবেই মনকে সান্তনা দিতে পারছে না। দো'আ পড়ে ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়ে।

    নিশুতি রাত । শান্ত প্রকৃতি । এই ধরার বুকে আকাশের নীলিমায় তারারা মিটমিট করে আলো ছড়াচ্ছে । হৃদয়ের ঘরের জানালার গ্রিল গলে ঠিকরে পড়ছে আলোকময় চাঁদের স্নিগ্ধ  জোছনা। বাহিরে বইছে মৃদুমন্দ হিমেল হাওয়া। রাতজাগা পাখি মাঝেমধ্যে ক্ষীণস্বরে আওয়াজ তুলছে। 

     হৃদয় স্বপ্নের রাজ্যে ডানা মেলে বিচরণ করছে । এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে উড়ছে । মনের আনন্দে ঘোরাফেরা করছে। প্রশান্তিতে শিহরিত তনুমন। হঠাৎই দেখা মিললো আকাশের সাথে । আকাশ করুণ স্বরে ডাকছে , কাকুতিমাখা স্বরে কান্নাকাটি করছে। হৃদয়কে সম্বোধন করে বলছে , 

     "বন্ধু আমি আত্মহত্যা করেছি মূলত প্রশান্তির খোঁজে। অশান্তিতে আমার মনটা টইটম্বুর ছিল। এখন এই বারযাখী (মৃত্যুর পরবর্তী জীবন) জীবনে এসে দেখি ভিন্নচিত্র। যে কষ্ট যন্ত্রণা আমি পৃথিবীতে থাকাকালীন সময়ে পেয়েছি , এরচেয়ে হাজার গুণ বেশি যাতনা পোহাতে হচ্ছে এখন। আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি অসন্তুষ্ট। কেন আমি আল্লাহর দেয়া জান শেষ করলাম ? কেন আমি তাড়াহুড়ো করলাম ? কষ্টের ও মন খারাপের দিনে আল্লাহর দয়ার সাগরে কেন অবগাহন করলাম না? তার স্মরণে তো অন্তরে প্রশান্তির ফোয়ারা বয়ে যায়। তিনি তো কুরআনে বলেছেন, 

     الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ 

     "আল্লাহর স্মরণে ঈমানদারদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রাখো, প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্তি লাভ করে"। ( রাদ ২৮)

      হৃদয়, আমার বন্ধু । শোন, আমি ভালো নেই। আদতে মানুষ আত্মহত্যা করে দুঃখ যন্ত্রণা থেকে বাঁচার মানসে। আমার গলায় যখন দড়িটা শক্তপোক্ত করে লেগে গেছিল, তখন কিন্তু আমি বাঁচার জন্য হাজার চেষ্টা তদবির করেছি। কিন্তু পারিনি। কেউ যখন আত্মহত্যা করে, পরে বাঁচার জন্য হাজার চেষ্টা করে । কিন্তু বাঁচতে পারে না। সমস্ত শক্তি পায়ে চলে যায়। দুই হাত উঠিয়ে যে গলা থেকে দড়িটা সরাবে এর শক্তি থাকে না। একটি সত্য কথা পৃথিবীবাসীকে বলে দিবি। কেউ যেন এই কাজে অগ্রসর না হয় । কারণ এর পরিণতি খুবই ভয়ঙ্কর । আমি এখন অনেক কষ্টে আছি। মানুষ মনে করে আত্মহত্যা করলে শান্তি পাওয়া যাবে। মূলত এটা শয়তানের পক্ষ থেকে ধোঁকা। শয়তান মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়। বন্ধু, আমার জন্য দো'আ করিস।"

      

    আত্মহত্যা করার ব্যাপারটা খুবই মারাত্মক । আল্লাহ তাআলা কুরআনে সতর্ক করে বলেছেন, 


    وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا 


    "তোমরা নিজেদের হত্যা করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্ৰহশীল।" 

    وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ 

    "তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। অনুগ্ৰহ করো। নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্ৰহকারীদের ভালোবাসেন।"

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মত যেন আত্মহত্যা না করে এজন্য সতর্ক করে বলেন, 

      عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنَ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَتَوَجَّأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ شَرِبَ سَمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَرَدَّى فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏

    আবু হুরায়রাহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দ্বারা সে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে তথায় সে চিরকাল অবস্থান করবে।

    আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামে আগুনের মধ্যে অবস্থান করে উক্ত বিষপান করতে থাকবে, এভাবে তথায় সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি নিজে পাহাড় থেকে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি সর্বদা পাহাড় থেকে নীচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পড়তে থাকবে, এভাবে সে ব্যক্তি তথায় চিরকাল অবস্থান করবে।" ( মুসলিম, হা/২০০)

      আত্মহত্যার বিষয়টা এতো মারাত্মক যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইসলামের পক্ষে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন একজন লোক। আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে মারা যায়। এই আত্মহত্যা করার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    সাহল ইবন সা'দ আস-সা'য়িদী রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সেনাবাহিনীর দিকে অগ্রসর হলে অপরপক্ষও তাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গীদের মধ্যে সে সময় এমন এক ব্যক্তি ছিল যে, সেদিন বীরত্বের সাথে লড়েছিল। কোনো কাফিরকে দেখামাত্র সে তার পিছনে লেগে যেতো এবং তরবারি দ্বারা খতম করে দিত। লোকেরা তার বীরত্ব দেখে বলাবলি করছিল যে, অমুক ব্যক্তি আজ যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে আমাদের কেউ তা পারেনি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মনে রেখো, সে ব্যক্তি জাহান্নামী। 

    উপস্থিত লোকদের একজন বললো, আমি সর্বক্ষণ তার সাথে থাকবো। তারপর সে ব্যক্তি তার পিছনে থাকলো। যেখানে সে থামত সেও তথায় থেমে যেতো। তখন সে দ্রুতবেগে কোথাও যেতো সেও তার সাথে দ্রুতবেগে তথায় গমন করতো। শেষ পর্যন্ত সে ব্যক্তি মারাত্মকভাবে জখম হলো। তারপর ক্ষতের জ্বালার তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে ত্বরায় মৃত্যু কামনা করলো। সে তার তরবারি জমিনে রেখে এর অগ্রভাগ তার উভয় স্তনের মাঝামাঝি ঠেকিয়ে তার উপর ঝুঁকে পড়লো এবং নিজেকে হত্যা করলো।

    তাকে অনুসরণকারী লোকটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলো এবং সাক্ষ্য প্রদান করলো, নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন, ব্যাপার কী? সে বললো, আপনি একটু আগে যে ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলেছিলেন এবং লোকেরা এতে আশ্চর্যান্বিত হয়েছিল; আমি বলেছিলাম, আমি তার সাথে সাথে থেকে তোমাদেরকে খবর দিব। আমি অপেক্ষায় থাকলাম। অবশেষে সে মারাত্মকভাবে আহত হলো এবং ত্বরায় মৃত্যুর জন্য নিজের তরবারি জমিনে রেখে এর অগ্রভাগ তার উভয় স্তনের মাঝামাঝি ঠেকিয়ে দিল। তারপর এর উপর ঝুঁকে পড়লো এবং নিজেকে হত্যা করলো। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, " মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জান্নাতের কাজ করছে অথচ সে জাহান্নামী আবার মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামের কাজ করছে অথচ সে জান্নাতবাসী।

    (মুসলিম, হা/২০৬)

    হাদীসের পাতা থেকে একটা ঘটনা উল্লেখ করছি,


    জাবির রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,

    তুফায়ল ইবনু ‘আমর দাওসী রাদিআল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে, আপনার জন্য একটি সুদৃঢ় দুর্গ ও সেনাবাহিনী হোক? বর্ণনাকারী বলেন, দাওস গোত্রে জাহিলী যুগের একটি দূর্গ ছিল (তিনি এদিকে ইঙ্গিত করেন)। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা কবুল করলেন না। কারণ, আল্লাহ তাথআলা আনসারদের জন্য এ সৌভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তুফায়ল ইবনু ‘আমর রাদিআল্লাহু আনহু এবং তাঁর গোত্রের একজন লোকও তাঁর সঙ্গে মাদীনায় হিজরত করেন। কিন্তু মাদীনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হয়নি। 

     তুফায়ল ইবনু ‘আমর রাদিআল্লাহু আনহুর সাথে আগত লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়লো। সে রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তীর নিয়ে তার হাতের আঙ্গুলগুলো কেটে ফেললো। এতে উভয় হাত থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে। অবশেষে সে মারা যায়।

    তুফায়ল ইবনু ‘আমর দাওসী রাদিআল্লাহু আনহু স্বপ্নে তাকে ভালো অবস্থায় দেখতে পেলেন, কিন্তু তিনি তার উভয় হাত আবৃত দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার রব তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছে"? সে বললো, আল্লাহ তাথআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

      তুফায়ল রাদিআল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে যে, আমি তোমার হাত দুথটো আবৃত দেখছি? সে বললো, আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমি স্বেচ্ছায় যে অংশ নষ্ট করেছো তা আমরা কখনো ঠিক করবো না। তুফায়ল রাদিআল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুথআ করলেন , হে আল্লাহ! আপনি তার হাত দুথটোকেও ক্ষমা করে দিন। ( মুসলিম, হা/ ২১১)

    আত্মহত্যা করা কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যাকারী আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা দিন থাকবে। চাইলে দীর্ঘকাল শাস্তি দিয়ে জান্নাতে দিবেন অথবা ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। 

    ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ এই হাদীসদ্বয় নিয়ে এসে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, কবিরা গুনাহ সম্পাদনকারী চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে যাবে না।

     আমরা অনেকেই ধারণা করি কবিরা গুনাহ সম্পাদনকারী চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে। এই ধারণা ভুল, অমূলক। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেছেন শিরক ছাড়া সবপাপ তিনি ক্ষমা করে দিবেন,

      إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ 

    "নিশ্চয় আল্লাহ শিরক ব্যতীত সকল গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন।" (নিসা ৪৮)

    আমাদের সন্তানরা মাঝে মধ্যে শয়তানের ধোঁকায় চোরাবালিতে পড়ে যায় । এহেন মুহূর্তে আমাদের এতো বিচলিত হওয়ার কিছু নেই । ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। অনেক অভিভাবককে দেখা যায় সন্তান যদি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় বা কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সন্তানকে বকাঝকা, গালমন্দ করে । এগুলো আদৌ কাম্য নয়।

     সন্তানদের মন ওই সময় এমনিতেই বিষন্নতায় ছেয়ে যায়। এর মাঝে যদি প্রিয়জনদের কাছ থেকে অপরিচিতদের মতো আচরণ পরিলক্ষিত হয়, তখন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা পড়ে । সহ্য করতে পারে না। নিজের জীবনে চলে আসে অনাসক্তি। পা বাড়ায় আত্মহত্যার প্রতি। সন্তানদের ব্যথায় অভিভাবকদের আলাদা দৃষ্টি রাখা উচিত। বিশেষ করে মা বাবাকে। তাদের সান্তনার ছায়ায় স্থান দেয়া, মাঝেমধ্যে অভয় বাণী শুনানো, "কিছু হয়নি, এবার সফল হতে পারোনি সামনে পারবে ইনশাল্লাহ। পারিবো না এ কথাটি বলিও না আর । একবার না পারিলে দেখো শতবার"।মন খারাপের দিনে মনে উৎফুল্লতার রেশ নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। খুনসুটি করা, সদা তাদের মনটা প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করা। ব্যর্থতার দিনে তাদের একা ছেড়ে না দেয়া।অভিভাবকদের উচিত আগেভাগে সন্তানের প্রতি যত্নশীল হওয়া ।তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় দেয়া। কার সাথে চলাফেরা উঠাবসা করে, কাকে প্রিয় বন্ধু বানিয়েছে এগুলো লক্ষ্য করা।একটা ছেলে বা মেয়ে যখন উঠতি বয়সে উপনীত হয়, তখন তার মাঝে শূন্যতা অনুভব হয় । মনের অজান্তেই কাউকে খুঁজতে থাকে। আমাদের সন্তানরা যেন কখনো শূন্যতা অনুভব করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা । কারণ ছাড়া মাগরিবের পর বাড়ির বাহিরে যেন কোনো অবস্থাতেই অবস্থান করতে না পারে। সন্তানদের শাসন করতে হবে, তবে মাত্রারিক্ত করা যাবে না । সবার সামনে মারা, বকাঝকা করা যাবে না। বরং নিরবে নিভৃতে আলাদা বলতে হবে। তাদের মারার চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে যদি উত্তমরূপে বুঝানো যায় । তাদের সামনে মেলে ধরা যায় জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য । তাকে ভবিষ্যতে কী হতে হবে বা অভিভাবকের লালিত স্বপ্ন তার কাছে উম্মোচন করা। সন্তান তো আর কাঠের মতো না, আপনি যা ইচ্ছা তাই বানাতে পারবেন । আপনি যদি আপনার সুপ্ত লালিত স্বপ্নের কথা সন্তানের কাছে না বলেন তাহলে সে বুঝবে কীভাবে আপনি তার থেকে কী প্রত্যাশা করছেন । এজন্যই কাঙ্খিত স্বপ্নের কথা বারবার তার কাছে মেলে ধরা। তাকে বলা, " বাবা তোমাকে এমন হতে হবে । এটা করতে হবে, এটা করলে চলবে না।"

    সাকুল্যে অভিভাবকদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো এক গুণীজন বলেছিলেন, "লোহা গরম থাকতেই যা ইচ্ছে তা তৈরী করো, ঠান্ডা হয়ে গেলে হাজার চেষ্টা করেও কাজ হবে না "। অর্থাৎ লোহা যখন উত্তপ্ত থাকে, তখন ছুরি, দা, বঁটি, কুড়াল, হাতুড়ি যা ইচ্ছে তা বানানো সম্ভব । যখন ঠান্ডা হয়ে যাবে, তখন আর কিছু করা সম্ভব হবে না। আমাদের সন্তানদের ছোটকাল থেকেই আদর্শবান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সামনে আগানো। ভালো ভালো কাজগুলো তাদের সামনে করা। তাহলে তারা আমাদের থেকে এগুলো দেখে দেখে শিখবে। আমাদের আগে আদর্শবান হতে হবে। নিজেই যদি অভদ্র বা খিটখিটে মেজাজের হই তাহলে সন্তানদের মানুষ করব কীভাবে? ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমে সবকিছু সামলে নিতে হবে । 

     কী কারণে একটা মানুষ আত্মহত্যা করে এটা আমাদের নিরূপণ করা উচিত। এ ব্যাপারে মোটাদাগে যদি আমি কোনো কথা বলি, সেটা হলো 'দ্বীন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব'। কোনো মানুষের মাঝে যদি ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞানের সমাহার বিদ্যমান থাকে তাহলে সে কখনোই এই মহাপাপের দিকে ঝুঁকবে না । মানুষের জীবনের বাঁকে বাঁকে হোঁচট খাবে, এটা স্বাভাবিক। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়, যার জীবনে কষ্ট আসেনি বা সে স্বয়ংসম্পূর্ণ। জীবনে চলতে গেলে ঘাত-প্রতিঘাত , চড়াই উতরাই মাড়িয়ে অগ্রসর হতে হয়। এই জীবন যুদ্ধের এবড়োখেবড়ো বন্ধুরপথ দেখে যদি আমরা আত্মহত্যা করে ফেলি তাহলে বিষয়টা আদতে বড্ড বেমানান। আল্লাহ তা'আলা দুটি কারণে মূলত মানুষদের বিপদাপদ দিয়ে থাকেন । 

     (এক) কারো যদি অপরাধ সীমাতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন ফিরে আসার জন্য তাকে শাস্তি দিয়ে থাকেন,

    ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ 

    "জলে ও স্থলের সকল বিপদাপদ মূলত মানুষের দু'হাতের উপার্জন। তারা যে পাপ করেছে তার তুলনায় স্বল্পই শান্তি দিয়ে থাকেন, যাতে ফিরে আসে।" ( রূম ৪১)

    وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَى دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ 

    "বড় শাস্তি দেয়ার পূর্বে আমরা তাদের ছোট শাস্তি দিয়ে থাকি, যাতে ফিরে আসে।" ( সাজদাহ ২১)

    (দুই) পরীক্ষা করার মানসে।

     আল্লাহ তাআলা মাঝেমধ্যে বান্দাদের বিপদাপদ, ডিপ্রেশন দুঃখ-যাতনা দিয়ে পরীক্ষা করে থাকেন,

     وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ 

    "অবশ্যই আমরা তোমাদের ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ হ্রাসের মাধ্যমে, নিজেদের ও ফলফলাদি ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করবো। ধৈর্যশীলদের জন্যই রয়েছে সুসংবাদ।" (বাকারার ১৫৫)

    এখন বিষন্নতার ঘনঘটা দেখে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই; বরং আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং এর বিনিময়ে তার কাছে সাওয়াবের প্রত্যাশা করা।


    আত্মহত্যার দু'নম্বর কারণ যদি বলতে হয় তাহলে বলবো 'ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা। প্রতিটি মানুষরই কোনো না কোনো স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচে না। কারো স্বপ্ন থাকে বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিসিএস ক্যাডার, উকিল বা জজ হওয়ার । এই স্বপ্নটা বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই দিনরাত পরিশ্রম করে যায় আবার অনেকে করে না। অনেকে যথাযথ চেষ্টা তদবির করার পরও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না, তখন তার মনটা ভীষণ রকমভাবে ভেঙ্গে যায়। মনের অজান্তেই বিষন্নতা চলে আসে। কেউ এই ব্যর্থতা সহ্য করতে পারে আবার কেউ শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। অনেক তরুণ গায়ে যখন তারুণ্যের জোয়ার বয়ে চলে , তখন গা এলিয়ে দেয়। তারুণ্যের দমকা হাওয়ায় ঝোঁকে পড়ে একপাশে। লেখাপড়া শেষ করার আগেই ঝুঁকে পড়ে প্রেম রাজ্যের অলিগলিতে। কিছুদিন খুব ভালো কাটে । সম্পর্কটা খুব মজবুত সুদৃঢ় থাকে। হঠাৎ যখন পরিবারের লোকদের মাঝে তাদের সম্পর্কের বিষয়টা জানা জানি হয় , তখন সম্পর্কে খানিকটা ছেদ পড়ে ।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিয়েটা আর হয় না। তখন ছেলে-মেয়ে উভয়ের মাঝে যার আবেগ বেশি বা ডিপ্রেশনের যাতনা সহ্য করার ক্ষমতা কম সে ঝোঁকে পড়ে আত্মহত্যার চোরাবালিতে। একবারও ভাবে না বেলা ফুরাবার আরো অনেক দেরি। এখনো মধ্যদুপুর । জীবন তো সবেমাত্র শুরু । এমন ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। আমাকে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, সম্মুখপানে এগিয়ে যেতে হবে । যোগ্যতার বলেই আমি হয়ে উঠবো একজন যোগ্য মানুষ। যাকে সবাই ভালবাসবে, কাছে পেতে চাইবে । পরিশেষে কয়েকটি কথা বলে লেখার যবনিকাপাত করছি। "তুমি স্বপ্ন দেখে যাও। স্বপ্ন বলতে আমি তোমাকে সেটা বুঝাচ্ছি না, যেটা তুমি ঘুমের ঘোরে দেখো । স্বপ্ন বলতে আমি তোমাকে সেটা বুঝাচ্ছি, যা বাস্তবায়নের জন্যে তুমি ঘুমাতে পারো না। মেয়েদের পেছনে ঘুরো না । যোগ্যতার পেছনে ঘুরো। সময় হলে দেখবে মেয়ের বাবা তোমার পেছনে ঘুরে। যোগ্যতার পেছনে সময় নষ্ট করো। হ্যাঁ, যোগ্যতার পেছনে সময় নষ্ট করো"।

    লেখক: সাইদুর রহমান 

    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url