ইসলামের সৌন্দর্য ০২
গত সংখ্যার পর থেকে ...
তোমার সাথে এখন আমার কথা হচ্ছে নাভির নিচের পশম কাটা নিয়ে। আমি আগেও বলেছি, ইসলাম হলো মার্জিত পরিচ্ছন্ন পরিপাটি একটা জীবন ব্যবস্থার নাম। লজ্জাস্থানের আশপাশে যেন ময়লা ও দুর্গন্ধ না থাকে এজন্য ইসলাম আদেশ করেছে নাভির নিচের পশম চাঁছার জন্য। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কত দিনের মধ্যে নখ, মুচ, বগলের পশম ও নাভির নিচের পশম চাছতে হবে এর নীতিমালাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন,
وَقَّتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَلْقَ الْعَانَةِ وَتَقْلِيمَ الأَظْفَارِ وَقَصَّ الشَّارِبِ وَنَتْفَ الإِبْطِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا مَرَّةً
'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন অন্তত চল্লিশ দিনে একবার নাভির নীচের পশম চাছতে, নখ কাটতে, মোচ ছাঁটতে ও বগলের পশম উপড়ে ফেলতে।' (মুসলিম, হা/২৫৮)
তাহলে তুমি কী বুঝতে পারলে? চল্লিশ দিনের মধ্যে তোমাকে অবশ্যই এগুলো চাছতে হবে বা কাটতে হবে। রাত -দিন যখন ইচ্ছা, তখনই কাটতে পারবে। তুমি অনেকেই বলতে শুনবে যে রাতে নাকি নখ, মুচ, বগলের পশম ও নাভির নিচের পশম কাটা যাবে না বলে থাকে। আদতে বিষয়টা এমন নয়। যখন ইচ্ছা তখনই কাটতে পারবে। কাটার পর গোসল করাও আবশ্যক নয়। কারণ এগুলো কাটা গোসল ফরজ হওয়ার কারণের পর্যায়ে নয়। কারো যদি গোসল করতে মনে চায় সে করবে, কোনো সমস্যা নেই আর যার ইচ্ছা গোসল করবে না। কিছু মানুষ তো আরো মনে করে যে চল্লিশ দিনের মধ্যে এগুলো না কাটলে সালাত বিশুদ্ধ হয় না। তাদের এই ধারণাও ভুল। সালাত বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যক্তি যে কাজটা করলো অর্থাৎ চল্লিশ দিনের মধ্যে কাটলো না এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত পরিপন্থী কাজ করেছে। মাঝে মধ্যে কিছু যুবক ফিসফিস করে বলে, রামাযান মাসে সিয়াম রেখে নখ, মুচ, বগলের পশম ও নাভির নিচের পশম কাটা যাবে কিনা। মাশাআল্লাহ। রামাযান সম্পর্কে তারা কত সতর্ক! রামাযানে দিনের বেলা নখ, মুচ, বগলের পশম ও নাভির নিচের পশম কাটাতে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। এটা আমাদের ভুল ধারণা। সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার কারণ এগুলো নয় । এখন কথা হলো কতটুকু পরিমাণ কাটবে। ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'লজ্জাস্থানের উপরে ও আশপাশের পশম চেঁছে ফেলবে। এমনিভাবে পায়খানার রাস্তার আশপাশে যে পশম আছে তা-ও চাছা উচিত। কারণ সেখানে ময়লা জমে থাকে। ' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৪ হা/৫৮৮৯)
কাটবে নাকি চাছবে? উত্তম হলো চাছা মুন্ডন করা। কারণ হাদীসে এসেছে মুন্ডন করার কথা।
حَلْقَ الْعَانَةِ
'নাভির নিচের পশম মুন্ডন করা।' (মুসলিম, হা/২৫৮)
তবে কেচি দিয়ে কাটলে বা পশম তোলে ফেললে যথেষ্ঠ হয়ে যাবে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে কেচি দিয়ে নাভির নিচের পশম কাটা যাবে কিনা সম্পর্কে। তিনি বলেন, 'কাটলে যথেষ্ট হয়ে যাবে।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৪ হা/৫৮৮৯)
ডান হাতে চাছবে নাকি বাম হাতে? এবিষয়ে কোনো হাদীসে দিকনির্দেশনা মূলক কিছু বর্ণিত হয়নি। তাই কিছু বিদ্বান বলেন, ডান হাতে চাছবে। কারণ এগুলো চাছা হলো ভালো কাজ। আর ভালো কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান দিক দিয়ে করতে পছন্দ করতেন। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ فِي طُهُورِهِ وَتَرَجُّلِهِ وَتَنَعُّلِهِ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সমস্ত কাজে যথাসম্ভব ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। তাহারাত অর্জন, মাথা আঁচড়ানো এবং জুতা পরার সময়ও। ( বুখারী, হা/৪২৬)
আর কিছু বিদ্বান বলেন, বাম হাত দিয়ে চাছতে হবে। কারণ এটা অপছন্দনীয় কাজ। আর অপছন্দীয় কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাত দিয়ে করতে পছন্দ করতেন। যেমন: তিনি টয়লেটে ঢুকার সময় বাম পা আগে দিতেন। আমরা মনে করি এবিষয়ে স্বাধীনতা রয়েছে। ডান হাত বা বাম হাত উভয় হাতের যেটা দিয়ে ইচ্ছে করতে পারবে। এ কথাই বলেছেন, মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন ও ইবনুল কাইয়ুম রহিমাহুমুল্লাহ । (সূত্র নেট)
সদ্য বিবাহিত কিছু যুবক মাঝে মধ্যে একটু কৌতূহলী মন নিয়ে কানে কানে ফিসফিস করে বলে, উস্তাদজী, আমার নাভির নিচের পশম আমার স্ত্রী চেঁছে দিতে পারবে, বা আমি আমার স্ত্রীর নাভির নিচের পশম চেঁছে দিতে পারবো? তখন লাজ শরম বাদ দিয়ে উত্তর দিতে হয়। কারণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য প্রকাশে কখনো লজ্জাবোধ করতেন না, সেহেতু আমি করবো কেন! তাই উত্তরটা শুনো, আল্লাহ তাআলা স্বামী স্ত্রীর পর্দার বিধান উঠিয়ে দিয়েছেন। তাদের জন্য একে অপরের লজ্জাস্হান দেখা বৈধ করেছেন। (মুমিনূন, ২৩/৬)
লজ্জাস্থান দেখা যদি বৈধ হয় তাহলে লজ্জাস্হানের আশপাশের পশম চাছা বৈধ হবে না কেন? অবশ্যই বৈধ হবে। ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'স্বামী স্ত্রী একে অপরের নাভির নিচের পশম চেঁছে দিতে পারবে।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৫ হা/৫৮৮৯)
ইদানিং নারীরা পশম তোলার ক্রীম ব্যবহার করে। এটা কি ব্যবহার করা বৈধ? হ্যাঁ, অবশ্যই বৈধ। এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ- কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এটা ব্যবহার করা বৈধ আছে।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৫ হা/৫৮৮৯) এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা সমীচিন মনে করছি। মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পশম হয়ে থাকে। নারী পুরুষ সকলেরই হয়ে থাকে। এ সকল পশম কাটার ব্যাপারে অনেক সময় জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হই। তাই এখানে বিষয়টা স্পষ্ট করতে চাচ্ছি। শরীরের পশম কাটার ব্যাপারে তিনটি মূলনীতি রয়েছে। (১) কিছু পশম কাটতে বা মুন্ডন করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন। এ পশম অবশ্যই কাটতে বা মুন্ডন করতে হবে। যেমন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচ ছাঁটতে, বগলের পশম উপড়াতে ও নাভির নিচের পশম মুন্ডন করতে আদেশ করেছেন।(মুসলিম, হা/২৫৮) এ পশম অবশ্যই কাটতে বা মুন্ডন করতে হবে। (২) কিছু পশম কাটতে নিষেধ করেছেন। যেমন: দাড়ি, ভ্রু প্রভৃতি। ।(মুসলিম, হা/২৫৮) (বুখারী, হা/৫৯৩৯) এ পশম কাটা যাবে না।
(৩) কিছু পশমের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আদেশ নিষেধ কিছুই বর্ণিত হয়নি। যেমন: বুকের পশম, কানের পশম, হাত পায়ের পশম, পিঠের পশম, ঘাড়ের পশম, রানের পশম প্রভৃতি পশম। এ পশমের ব্যাপারে কথা হলো এগুলো কাটা বৈধ আছে। কারণ শরীয়াত এ বিষয়ে কিছু বলেনি।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُكُونَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا فَبَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ وَأَحَلَّ حَلاَلَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلاَلٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ
ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, জাহিলী যুগের লোকেরা কিছু জিনিস খেতো এবং ঘৃণাবশত কিছু জিনিস পরিহার করতো। এ অবস্থায় আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেন। হালাল জিনিস হালাল করলেন ও হারাম জিনিস হারাম করলেন। যা হালাল করেছেন তা হালাল আর যা হারাম করেছেন তা হারাম। আর যে বিষয়ে চুপ থেকেছেন তা ক্ষমাযোগ্য ।'( আবু দাউদ, হা/৩৮০০)
وما كانَ رَبُّكَ نَسِيًّا}.
'তোমার রব কিছু ভুলে যান না।' (মারিয়াম, ৬৪)
এটাই বিন বায, ইবনে উসাইমীন ও লাজনায়ে দায়েমার ফতোয়া। (সূত্র নেট)
এখানে একটা কথা না বললেই নয়, অনেক মানুষের ভ্রুর পশম অনেক বড় হয়ে থাকে, যার দরুন তাদের কষ্ট হয়। কারো এমন হলে কিঞ্চিত কাটতে পারবে। একথাই বলেছেন ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৮১ হা/৫৯৩৯)
এবার তোমার সাথে কথা হলো বগলের নিচের পশম সম্পর্কে। এটা কি কাটবে নাকি মুন্ডন করবে নাকি উপড়ে ফেলবে? হাতের আঙ্গুল দিয়ে উপড়ে ফেলা হলো সুন্নাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
" الْفِطْرَةُ خَمْسٌ الْخِتَانُ، وَالاِسْتِحْدَادُ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ ".
' মানুষের স্বভাবগত বিষয় হলো পাঁচটি,খাতনা করা, নাভির নিচের পশম চেঁছে ফেলা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, গোফ ছাঁটা ও নখ কাটা।' ( বুখারী, হা/ ৬২৯৭)
ইমাম শাফী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'বগলের নিচের পশম উপড়ে ফেলা হলো সুন্নাহ।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৫ হা/৬২৯৭)
উপড়ে ফেলা এটা খুব কঠিন কাজ। অনেক সময় রক্ত বের হয়। তাই উচিত হলো যখন এটা প্রথমে উঠবে, তখন উপড়ে ফেলা। কাটবে বা চাছবে না। বড় হয়ে গেলে যদি কারো উপড়াতে সমস্যা হয় তাহলে তাদের জন্য কেচি দিয়ে কাটা বা খুর দিয়ে মুন্ডন করা জায়েয আছে। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৫ হা/৬২৯৭)
ক্রীম ব্যবহার করে তোলা যাবে? হ্যাঁ, ক্রীম মেখে তোলা যাবে, কোনো সমস্যা নেই। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৫ হা/৬২৯৭)
ডান হাতের বগলের নিচের পশম আগে উপড়াবে নাকি বাম হাতের? মুস্তাহাব হলো ডান দিক দিয়ে শুরু করা। অর্থাৎ বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে ডান হাতের বগলের নিচের পশম উপড়ে ফেলা ও বাম হাতের পশম। কিন্তু যদি বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের বগলের নিচের পশম কাটতে কষ্টকর হয় তাহলে ডান হাত দিয়ে করবে । (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৫ হা/৬২৯৭)
মুচিকে দিয়ে বগলের নিচের পশম কাটা যাবে কি? হ্যাঁ, যাবে। তবে এটা না করাই উত্তম। নিজেরটা নিজে করাই ভালো। এটা একটা দৃষ্টিকটু বিষয়। আপনার নিজের কাটতে সমস্যা হলে স্ত্রীকে বলুন কেটে দিতে। সেলুনে কাটবে না। যদিও আমরা বলেছি মুচিকে দিয়ে কাটানো যাবে। জায়েয ও উত্তমের মাঝে উত্তমটাই গ্ৰহণ করা ভালো। আর কয় দিনের মধ্যে কাটতে হবে সেটা তো আমরা আগেই বলেছি। মনে আছে না? আরে ৪০ দিনের মধ্যে। আবার উপরে চোখ বোলাও।
আমাদের পেটে অনেক সময় জীবাণু যায় নখের দ্বারা। বিশেষ করে নখ যদি বড় থাকে তাহলে জীবাণু নখে আঁটকে থাকে। পরে তা পেটে চলে যায় আর আমাদের সমস্যা হয়। এই দিকটা লক্ষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নখ কাটতে আদেশ করেছেন।
এখন কথা হলো কোন হাতের নখ আগে কাটবো ও কোন আঙ্গুলের নখ আগে কাটবো।
প্রথম কথা হলো ডান হাতের আঙ্গুলের নখ আগে কাটবে। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ فِي طُهُورِهِ وَتَرَجُّلِهِ وَتَنَعُّلِهِ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সমস্ত কাজে যথাসম্ভব ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। তাহারাত অর্জন, মাথা আঁচড়ানো এবং জুতা পরার সময়ও। ( বুখারী, হা/৪২৬)
এরপর কথা হলো কোন আঙ্গুলের নখ আগে কাটবে? এ ব্যাপারে অনেক বিদ্বান অনেক কথা বলেছেন। তবে ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ এর কথা বেশি যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেন, মুস্তাহাব হলো প্রথমে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলের নখ কাটবে। এর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে যে এটা দ্বারাই সালাত পড়ার সময় তাশাহুদ পড়া হয়। যার কারণে শয়তান কষ্ট পায়। তারপর মধ্যমা আঙ্গুল। তারপর অনামিকা আঙ্গুল। তারপর কনিষ্ঠা আঙ্গুল ও তারপর বৃদ্ধাঙ্গুল। এরপর বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল। তারপর অনামিকা আঙ্গুল। তারপর মধ্যমা আঙ্গুল। তারপর শাহাদাত আঙ্গুল ও তারপর বৃদ্ধাঙ্গুল। তারপর ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুল। তারপর অনামিকা আঙ্গুল। তারপর মধ্যমা আঙ্গুল। তারপর শাহাদাত আঙ্গুল ও তারপর বৃদ্ধাঙ্গুল। তারপর বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল। তারপর শাহাদাত আঙ্গুল। তারপর মধ্যমা আঙ্গুল। তারপর অনামিকা আঙ্গুল। তারপর কনিষ্ঠা আঙ্গুল। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৬ হা/৬২৯৭)
কিছু বিদ্বান বলেছেন, আগে ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল, তারপর অনামিকা, তারপর মধ্যমা, তারপর শাহাদাত ও পরে বৃদ্ধাঙ্গুল। বাম হাতের আগে বৃদ্ধাঙ্গুল, তারপর শাহাদাত, তারপর মধ্যমা, তারপর অনামিকা এ পরে কনিষ্ঠা আঙ্গুল। ডান পায়ের আগে কনিষ্ঠা আঙ্গুল, তারপর অনামিকা, তারপর মধ্যমা, তারপর শাহাদাত ও পরে বৃদ্ধাঙ্গুল। বাম পায়ের আগে বৃদ্ধাঙ্গুল, তারপর শাহাদাত, তারপর মধ্যমা, তারপর অনামিকা এ পরে কনিষ্ঠা আঙ্গুল কাটবে।
(ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৭ হা/৬২৯৭)
আমি ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ- এর মত গ্ৰহণ করেছি। এর কারণও বর্ণনা করছি। এ বিষয়ে বিদ্বানদের মতভেদ হওয়ার কারণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাতের কোন আঙ্গুল দিয়ে শুরু করবে এ বিষয়ে কোনো হাদীস বর্ণিত হয়নি। এখন কথা হলো ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ -এর কথা কে কেন প্রাধান্য দেয়া হলো। আসলে তুমি যদি হাদীসের ব্যাখ্যাগ্ৰন্হ ফাতহুল বারী, তুহফাতুল আহওয়াজী, নাইলুল আওতার, মিরআত প্রভৃতি গ্ৰন্হ পড়ো তাহলে তুমি দেখতে পাবে ওই সকল ব্যাখ্যাগ্ৰন্হ ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ- এর কথা দিয়ে টইটম্বুর। ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারীতে একটু পর পর তার কথা নিয়ে আসছেন। আর তিনি মুহাক্কীক বিদ্বানদের মাঝে প্রথম সারির। আর এজন্যেই তার মতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
চল্লিশ দিনের মধ্যে কিন্তু অবশ্যই কাটতে হবে। বড় হয়ে গেলে আগেই কাটবে। কোনো অবস্থাতেই যেন চল্লিশ দিন পাড় না হয়। রাতে দিনে যখন ইচ্ছা কাটতে পারবে । অনেকে মনে করে রাতে নখ কাটা যাবে না। যখন অবসর হবে, সময় পাবে,তখনই কাটবে। এর জন্য ধরাবাঁধা কোনো সময় নেই। এখন কথা হলো গিয়ে কোন দিন কাটবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কোনো সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি। কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা দুর্বল। ইমাম বাইহাকী উল্লেখ করেন, 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন নখ ও মুচ কাটতে পছন্দ করতেন।' এই হাদীস দুর্বল। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারীতে এই হাদীসকে দুর্বল বলেছেন। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৭ হা/৬২৯৭) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ- কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তিনটি উত্তর দেন। (১) জুমার দিন সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে কাটা সুন্নাহ (২) বৃহস্পতিবার দিনে কাটা সুন্নাহ ও (৩) যে দিন ইচ্ছে সেদিন কাটবে। আর এটাই গ্ৰহণযোগ্য কথা। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৭ হা/৬২৯৭)
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'এখানে মূলনীতি হলো মানুষের প্রয়োজন। যখন তার প্রয়োজন দেখা দিবে, তখন সে কাটবে।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৮ হা/৬২৯৭) হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, "জুমার দিন কাটা ভালো। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিপাটি হয়ে মসজিদে যেতে আদেশ করেছেন।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৮ হা/৬২৯৭)
আমরা মনে করি যে কোনো দিন কাটা যাবে, কোনো সমস্যা নেই। তবে যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু সাজুগুজু করতে বলেছেন, সেহেতু জুমার দিন কাটা মুস্তাহাব । নখ, চুল, মুচ কেটে এগুলো কি ফেলে দিবে নাকি মাটিতে পুঁতে রাখবে ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কোনো সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি। ইমাম বাইহাকী রহিমাহুল্লাহ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তা দুর্বল। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৮ হা/৬২৯৭)
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ- কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি মনে করি পুঁতে রাখা উত্তম। কারণ ইবনে উমার রাদিআল্লাহু আনহু এমন করতেন।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৮ হা/৬২৯৭)
তার থেকে আরো একটি মত পাওয়া যায়। আর সেটা হলো, কেউ যদি ফেলে দেয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। বিন বায রহিমাহুল্লাহ- কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে স্বাধীনতা রয়েছে। যার ইচ্ছা পুঁতে রাখবে যার ইচ্ছা ফেলে দিবে।' মুহাম্মদ বিন সালেহ উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ-কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি এ বিষয়ে স্বাধীনতা রয়েছে। যার ইচ্ছা পুঁতে রাখবে যার ইচ্ছা ফেলে দিবে। তবে পুঁতে রাখা উত্তম। কারণ কিছু সাহাবী এগুলো পুঁতে রাখতেন।' ( সূত্র, নেট) আমরা মনে করি পুঁতে রাখাই উত্তম। কারণ এটা মানুষের একটা অংশ। আর মানুষের অংশের একটা সম্মান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষ কে সম্মানীত করে সৃষ্টি করেছেন। (ইসরা,১৭/৭০) এটাই হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারীতে বলেছেন।(ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৮ হা/৬২৯৭)
কিছু তরুণ তরুণীকে দেখা যায় দুএকটা আঙ্গুলের নখ বড় রাখে। বিশেষ করে কনিষ্ঠা আঙ্গুলের নখ। এটা আদৌ উচিত নয়। পতিতালয়ের মেয়ে ও অমুসলিম মেয়ে এমন করে। তুমি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে কীভাবে এমন আচরণ করো। অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য রাখতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। নখ তো বড় থাকে জীবজন্তুর। তুমি তো জীবজন্তু নও। জীবজন্তু তো কাটতে পারে না। এমনিভাবে তাদের জ্ঞান নেই , নেলকাটার নেই, তারা কীভাবে কাটবে! তোমার কাছে তো সবকিছু আছে। আর তোমার বিবেক বুদ্ধিও আছে। তাহলে তুমি তো জীবজন্তুর মতো হয়ে গেলে! তোমার মাঝে ও তাদের মাঝে তফাত কোথায়! তুমি তো তাদের থেকেও নিচে নেমে গেলে। কারণ আল্লাহ তাআলা তাদের জ্ঞান বিবেক দেননি, তাই তারা কাটে না। তোমাকে তো বিবেক বুদ্ধি দিয়েছেন। নিরবে নিভৃতে একটু কথাগুলো চিন্তা করো। দেখো, তুমি কি এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে কিনা।
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
'আমরা অনেক জীন ও মানুষ জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর রয়েছে; কিন্তু তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না, চোখ আছে, কিন্তু তা দ্বারা দেখে না, কান আছে, কিন্তু তা দ্বারা শুনে না। তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তাদের থেকে বেশি বিভ্রান্ত। তারাই উদাসীন।' (আরাফ, ৭/১৭৯)
অপবিত্র অবস্থায়ও নখ কাটা যায়। অনেক নারী মনে করে গোসল ফরজ অবস্থায় নখ কাটা জায়েয নেই। এটা তাদের ভুল ধারণা।
এখন তোমার সাথে আমার কথা হলো গোঁফ ঠোঁটের উপর থেকে ছাঁটবে, নাকি ঠোঁটের সাথে একেবারে ছেঁটে মিলিয়ে দিবে নাকি মুন্ডন করে ফেলবে?
অধিকাংশ হাদীসে ছাঁটার কথা এসেছে।
وَقَصُّ الشَّارِبِ
'গোঁফ ছাঁটো।' ( বুখারী, হা/ ৬২৯৭)
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'গোঁফ ঠোঁটের উপর থেকে ছাঁটবে, মুন্ডন করবে না।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৮ হা/৬২৯৭)
ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহিমাহুমুল্লাহ এর নিকট ছাঁটার চেয়ে মুন্ডন করা উত্তম। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৯ হা/৬২৯৭)
কাসেম ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'গোঁফ মুন্ডন করা আমার নিকট মুছলার (অঙ্গহানি) মতো।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৯ হা/৬২৯৭)
ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ -কে গোঁফ একেবারে ঠোঁটের সাথে মিলিয়ে ছাঁটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'যে এমন করবে তাকে পিটাতে হবে।' তাকে আরো বলা হয় যে ব্যক্তি গোঁফ মুন্ডন করে তার ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বলেন, এমন করা বিদয়াত। বর্তমানে এটা মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।'
(ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৩৯ হা/৬২৯৭) অধিকাংশ সাহাবী, তাবিয়ী, ইমাম শাবী, ইবনু আব্দুল বার হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ এই মত গ্ৰহণ করেছেন। অর্থাৎ গোঁফ ঠোঁটের উপর থেকে ছাঁটবে, মুন্ডন করবে না। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৪০ হা/৬২৯৭)
শাইখ নাসিরউদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ ফাতাওয়া আলবানীতে এই মত পোষণ করেন।
(ফাতাওয়ায়ে আলবানী, পৃঃ ১৭৫)
আমিও এই মত পোষণ করি।
চল্লিশ দিনের মধ্যে কিন্তু অবশ্যই গোঁফ কাটবে। কাটা কিন্তু আবশ্যক। আরে একথা আমি বলিনি। বলেছেন ইবনু হাযম রহিমাহুল্লাহ। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৪১ হা/৬২৯৭)
নাসিরউদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ ফাতাওয়ায়ে আলবানীতে বলেছেন ওয়াজিব। (ফাতাওয়ায়ে আলবানী, পৃঃ ১৭৬)
আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'সালাত আদায়ের জন্য যেমন নির্দিষ্ট সময় সীমা রয়েছে। অনুরূপ গোঁফ, নখ, বগলের নিচের পশম ও নাভির নিচের পশম কাটার নির্দিষ্ট সময় সীমা রয়েছে।' এখন কথা হলো কোন দিক থেকে কাটবে। ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'ডান দিক দিয়ে গোঁফ কাটা মুস্তাহাব।' (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৪০ হা/৬২৯৭)
তাঁর দলীল হলো,
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ فِي طُهُورِهِ وَتَرَجُّلِهِ وَتَنَعُّلِهِ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সমস্ত কাজে যথাসম্ভব ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। তাহারাত অর্জন, মাথা আঁচড়ানো এবং জুতা পরার সময়ও। ( বুখারী, হা/৪২৬)
বিন বায, মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন
ও নাসিরউদ্দিন আলবানী রহিমাহুমুল্লাহ বলেন, 'এ বিষয়ে প্রশস্ততা রয়েছে। যার ইচ্ছা ডান দিক থেকে কাটবে যার ইচ্ছা বাম দিক থেকে। কারণ এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশ নেই।' (সূত্র, নেট) আমিও এই মতের প্রবক্তা।
গোঁফ তুমি ইচ্ছে করলে নিজে কাটতে পারো অথবা কাউকে দিয়ে কাটাতে পারো কোনো সমস্যা নেই। (ফাতহুল বারী, খন্ড, ১৩ পৃঃ ৩৪০ হা/৬২৯৭)
রাত -দিন যখন ইচ্ছা তখন কাটতে পারবে কোনো সমস্যা নেই। অপবিত্র অবস্থায় সিয়াম রাখা অবস্থায়ও কাটতে পারবে। আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর ইসলামী বিধান কঠিন করি। অনেক মানুষ না জেনে মনে করে অপবিত্র অবস্থায় সিয়াম রাখা অবস্থায় ও রাতে কাটা যাবে না। তাদের এই ধারণা ঠিক নয়। কিছু যুবককে দেখা যায় বৃটিশ আমলের নবাবদের ভাব ধরতে। উপর দিয়ে গোঁফ কাটে আর দুই ঠোঁটের নিচ দিয়ে কাটে না। অনেকে আবার গোঁফ প্যাচিয়ে রাখে। গোঁফ একেবারে কাটতে হবে। কিছু কাটবে আর কিছু রেখে দিবে এমন করলে হবে না। এটা কাযা (কিছু কাটা ও কিছু না কাটা) এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে কাটতে নিষেধ করেছেন।
نَهَى عَنِ الْقَزَعِ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কাযা’ (কিছু কাটা ও কিছু না কাটা) থেকে নিষেধ করেছেন।'
( বুখারী, হা/৫৯২১)
কিছু শিক্ষিত মহলে দেখা যায় গোঁফ ইয়া বড় বড় করে রাখে। মুখের মধ্যে নেই দাড়ি; কিন্তু গোঁফ অনেক বড় বড়। তাদের দেখলে বড়ই আশ্চর্য হই। সম্পূর্ণ উল্টো কাজ করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দাড়ি লম্বা করতে আর গোঁফ ছোট করতে।' (বুখারী, হা/৫৮৯২)
তারা করছে এর বিপরীত। দাড়ি একেবারে মুন্ডন করে ফেলছে আর গোঁফ বড় বড় রাখছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী যদি তাদের কাছে পৌঁছতো,
" مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ فَلَيْسَ مِنَّا
'যে ব্যক্তি গোঁফ খাটো করে না, সে আমাদের (সুন্নাতের) অনুসারী নয়।' (তিরমিজী, হা/ ২৭৬১)
এ সকল লোকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই বলে দিচ্ছেন,
وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ
'তারা সরল পথ দেখলে তা গ্রহণ করবে না। আর বাঁকা পথ দেখলে তা গ্রহণ করবে। এর কারণ হলো তারা আমাদের আয়াতকে মিথ্যা মনে করে ও তারা এ ব্যাপারে উদাসীন।' (আরাফ, ৭/ ১৪৬)
দেখলে আল্লাহ তাদের সম্পর্কে কত সুন্দরভাবে বলেছেন। সবচেয়ে বিদঘুটে লাগে কিছু বৃদ্ধ মানুষকে দেখলে। মুখে দাড়ি নেই; কিন্তু গোঁফ বড় বড়। কত ভয়ংকর যে লাগে তাদের দেখলে! চোখ লজ্জায় তাদের কেউ কিছু বলেও না। তারা মনে করে আমাকে কত সুন্দর দেখা যায়!! এটা তাদের বোকামো বৈকি! আল্লাহ তাআলা তাদের সুবোধ দান করুন আমীন। ইসলাম হচ্ছে মধ্যমপন্হী একটি জীবন বিধান। এতে যেমন বাড়াবাড়ি নেই, আবার ছাড়াছাড়ি নেই। কিছু লোক বাড়াবাড়ি করে বলে, গোঁফে পানি লাগলে পানি নাপাক হয়ে যায়'। তোমার কথার সাথে ভাই আমি একমত নই। পানি নাপাক হওয়ার কথা হাদীসে বর্ণিত হয়নি। আবার কেউ বলে, 'সালাতই হবে না'। প্রিয়, সালাত হয়ে যাবে; কিন্তু সে না কাটার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। কারণ সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য গোঁফ কাটা শর্ত নয়। আশা করি তুমি বুঝতে পারছো।
পরবর্তী পর্বে সমাপ্ত
.jpg)