সূচিপত্র

    ইসলামের সৌন্দর্য ০৩

     


    গত সংখ্যার পর থেকে ....

    অনেকে মাঝে মধ্যে বলে, নাকের ভেতরের পশম কাটা যাবে কিনা? আসলে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির কারিশমা বুঝা বড় দায়। তিনি আমাদের নাকের ভেতর পশম দিয়েছেন ঝাল স্বরূপ, যেন ধূলোবালি ভেতরে না যায়। এই পশমগুলো ময়লা আঁটকে রাখে। এই দিকে লক্ষ্য করে না কাটাই ভালো। আর কারো যদি দু-একটি পশম বাহিরে বের হয়ে যায়, যার দরুন বিদঘুটে দেখা যায় তাহলে কেচি দিয়ে উপর থেকে কেটে দিবে। নাকের ভেতরের পশম কাটা যাবে কিনা এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি। তাই আমরা ডাক্তাররা কী বলে সেদিকে গেছি। অর্থাৎ না কাটাই ভালো। আরা কারো পশম বাহিরে চলে আসলে কেচি দিয়ে কেটে দিবে। 

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাথার চুল ছাঁটার নিয়ম কী? একেবারে মুন্ডন করে ফেলবে নাকি বাবড়ি রাখবে নাকি ছোট করে কাটবে? চুল কাটার ক্ষেত্রে দুটি মূলনীতির কথা মনে রাখতে হবে।  (১) কাটের ধরনটা যেন কাফেরদের মতো না হয়। 

     ‏ "‏ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.

     যে কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলে ধরা হবে সে তাদের দলভুক্ত।'( আবু দাউদ, হা/ ৪০৩১)

    لا تَشبَّهوا باليهودِ والنَّصارى

    ' তোমরা ইহুদী ও খৃস্টানদের সাদৃশ্য গ্ৰহণ করবে না।'

     (সহীহুল জামে, হা/ ১০৬৭)

    (২)  কিছু চুল রাখা ও কিছু কাটা যাবে না। হাদীসের পরিভাষায় একে কাযা বলা হয়। আর এরূপ করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।

    نَهَى عَنِ الْقَزَعِ‏.‏

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কাযা’ (কিছু কাটা ও কিছু না কাটা) থেকে নিষেধ করেছেন।' 

    ( বুখারী, হা/৫৯২১)

    رأى النَّبيُّ - ﷺ - صَبيًّا قد حلقَ بعضَ شعرِهِ وترَكَ بعضَهُ فنَهاهم عن ذلِكَ وقالَ: احلِقوا كُلَّهُ أو اترُكوا كُلَّهُ.

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালককে দেখতে পেলেন তার মাথার কিছু চুল মুন্ডন করা হয়েছে আর কিছু রেখে দেয়া হয়েছে। তারপর তিনি এমন করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ চুল মুন্ডন করো অথবা সম্পূর্ণ রেখে দাও।' (সিলসিলাতুস সাহীহা, হা/১১২৩) 


    তারপর কথা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাবড়ি রেখেছেন এটা মনে করে কেউ যদি বাবড়ি রাখে তাহলে আশা করা যায় সে সাওয়াব পাবে। কারণ বাবড়ি রাখাটা হলো সুন্নাতে আদাদী তথা অভ্যাসগত সুন্নাহ। বাবড়ি রাখা দাড়ি রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ না। কারণ দাড়ি রাখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন গুরুত্বারোপ করেছেন, বাবড়ি রাখার জন্য ততটা করেননি। আমাদের একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ দুধরনের।  সুন্নাতে আমালী তথা আমলগত সুন্নাহ ও সুন্নাতে আদাদী তথা অভ্যাসগত সুন্নাহ। আমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে সুন্নাতে আমালী গ্ৰহণ করা আদাদী আবশ্যক নয়। কেউ যদি আদাদী সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে তাহলে আশা করা যায় সে সাওয়াব পাবে। কারণ সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের চেষ্টা করেছে। আর কেউ যদি না করে তাহলে তাকে তিরস্কার করা যাবে না। আমার জানা মতে কোনো হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাবড়ি রাখার জন্য আদেশ করেননি, যেমন আদেশ করেছেন দাড়ি রাখার জন্য। আরো কিছু সুন্নাতে আদাদীর নাম উল্লেখ করছি। যেমন: পাগড়ি পরা, লাঠি নিজের সাথে রাখা প্রভৃতি। মক্কার কাফেররাও পাগড়ি পরতো ও বাবড়ি রাখতো। আশা করি তুমি আমার কথা বুঝতে পেরেছো। অনেক মানুষ মাথা মুন্ডন করাকে আল্লাহ ওয়ালার লক্ষণ মনে করে। এটা আদৌ উচিত নয়। এটা হলো সুফিদের ধারনা। মাথা মুন্ডন করা জায়েয আছে, কোনো সমস্যা নেই। তবে মাথা মুন্ডন করাকে সাওয়াবের কাজ বা বুযুরগ, আল্লাহ ওয়ালার লক্ষণ মনে করা যাবে না। মাদরাসায় পড়ার সূচনাকালে কিছু উস্তাদ আমাদের মাথা মুন্ডন করার কথা বলতেন। আমরা দেখতাম যে ছাত্ররা মাথা মুন্ডন করতো তাদের আল্লাহ ওয়ালা ছাত্র মনে করা হতো, তাদের প্রতি আলাদা দৃষ্টি দেয়া হতো।  এসব কিছু সুফিদের থেকে আশা খেয়াল মাত্র। আল্লাহ সুবোধ দান করুন আমীন।



    সমস্ত প্রসংশা মহান রবের প্রতি । তাঁর অপার অনুগ্রহে আজ অবধি জীবিত আছি । কিছু কথা লেখার তাওফীক পেয়েছি । এখনো কলম রুদ্ধ হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। অজস্র শান্তিরধারা বর্ষিত হোক সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ মানব, প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ের স্পন্দন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি।


    লেখক 

    সাইদুর রহমান 




    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url